...|...|...

চট্টগ্রাম

জীবন বাঁচাতে ছুটেছিল তাজমিন

ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ২:৫২
Shares
ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তির চিহ্ন

ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৪) রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশের কয়েকটি ধানক্ষেত এলোমেলো হয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, সেখানে দৌড়াদৌড়ি কিংবা ধস্তাধস্তি হয়ে থাকতে পারে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছেই পাওয়া যায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ। অটোরিকশাটি জব্দ করে সেটির সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

সরেজমিন দেখা গেছে, জগৎপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে যাওয়া নির্জন পাকা সড়কের দুপাশে বিস্তৃত ফসলি জমি। সড়কসংলগ্ন চার-পাঁচটি ক্ষেতে ধানগাছ এলোমেলোভাবে পড়ে রয়েছে। দেখে মনে হয়, কোনো কোনো স্থানে দৌড়াদৌড়ি কিংবা ধস্তাধস্তি হয়েছে। একটি ধানক্ষেতে সড়কের পাশেই পড়ে ছিল সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি। পরে স্থানীয়রা সেটি টেনে সড়কের ওপর তুলে আনেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, সকালে ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পড়ে থাকার খবর পেয়ে তিনি সেখানে যান। গাড়িটি থেকে প্রায় ২০-৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ দেখতে পান। আশপাশের ধানক্ষেতে এলোমেলো ধানগাছ ও ধস্তাধস্তির মতো চিহ্ন দেখে সামনে এগিয়ে একটি ধানক্ষেতে নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মরদেহটির মাথা কাদায় ডুবে ছিল এবং গলায় প্যাঁচানো ছিল একটি গামছা। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।

আরেক বাসিন্দা মো. মুহিন বলেন, ধানক্ষেতের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে, মেয়েটি জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। তবে কারা এ ঘটনার সাথে জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছি। একইসাথে ধানক্ষেতে অটোরিকশাটি কীভাবে এলো, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।

ঘটনার আগের রাতে বাবার কাছে নিজের অবস্থানের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল তাজমিন- এমন তথ্যও জানা গেছে। এরপর তার সাথে কী ঘটেছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর সে কীভাবে লালমাইয়ের জগৎপুর এলাকায় পৌঁছাল, কার সঙ্গে সেখানে গিয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে তার মৃত্যু হলো- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। সেখান থেকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে। নিহতের শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তার গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও বলেন, জব্দ করা অটোরিকশাটির নিবন্ধন রয়েছে। গাড়িটির সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে।