...|...|...

জাতীয়

দেশে ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সংকট হবে না: বিপিসি চেয়ারম্যান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:১৯
Shares
দেশে ডিসেম্বর পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সংকট হবে না: বিপিসি চেয়ারম্যান

বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম বলেছেন, বৈশ্বিক নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার বিকল্প সব উপায়ে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। এ মুহূর্তে দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই এবং আগামী ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জয়পাহাড়স্থ নবনির্মিত প্রধান কার্যালয় ভবনে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এতে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা খুব একটা নেই। স্বল্প মেয়াদে সরবরাহে যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেটিই এখন বিপিসির প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সভায় বিপিসির কার্যক্রম, জ্বালানি তেল ও এলপিজি আমদানি, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। সংস্থার কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতাও চান তিনি।

বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি স্থানীয়ভাবে কারও নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি মূলত একটি বৈশ্বিক সংকট। এ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই বিপিসির অগ্রাধিকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দামে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার চেষ্টা চলছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে জ্বালানি তেল আমদানির প্রিমিয়াম বেড়ে যাওয়া এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ প্রসঙ্গে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, সামনের দিনগুলোতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আরও প্রতিযোগিতামূলক দামে জ্বালানি তেল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে লোহিত সাগরকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তা বিবেচনায় রেখে বিকল্প উৎস খোঁজা হচ্ছে। নাইজেরিয়া, নরওয়ে, মালয়েশিয়া ও আলজেরিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল এনে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধন করা যায় কি না, সেই সম্ভাবনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

এসপিএম প্রকল্প, ঢাকা-চট্টগ্রাম পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন প্রকল্প এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি-২ প্রকল্প নিয়েও নানান প্রশ্নের জবাব দেন তিনি।

এসময় বিপিসির পরিচালক (পরিকল্পনা) আসাদুল হক, বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা, বিপিসির উর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক এটিএম সেলিম, যমুনা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউসুফ হোসেন ভুইয়া, পদ্মা অয়েল পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান, মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহীরুল হাসান, এলপি গ্যাস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আমীর মাসুদ, বিপিসির মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) ফেরদৌসী মাসুম হিমেল, মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) জাহিদ হোসাইনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।