...|...|...

ধর্ম

দৃষ্টিহীন নওমুসলিম নারীর কোরআন সেবার উদ্যোগ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:২৯
Shares
দৃষ্টিহীন নওমুসলিম নারীর কোরআন সেবার উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত

জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন ইয়াদিরা সাবাতা ২০০৪ সালে ইসলাম গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাসকারী এই নওমুসলিম ইসলাম গ্রহণের পর পবিত্র কোরআন ও ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে জানার প্রবল আগ্রহ অনুভব করেন। কিন্তু দৃষ্টিহীনতার কারণে প্রয়োজনীয় ইসলামি বই পড়ার সুযোগ না থাকায় তার জ্ঞানার্জনের পথ কঠিন হয়ে ওঠে।

নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই ইয়াদিরা উপলব্ধি করেন, দৃষ্টিহীন মুসলমানদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ইসলামি সাহিত্য সহজলভ্য করা জরুরি। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৬ সালে স্বামী নাদিরকে সাথে নিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইসলাম বাই টাচ’। সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য দৃষ্টিহীন মানুষের কাছে ব্রেইল পদ্ধতিতে কোরআন, কোরআনের অনুবাদ ও বিভিন্ন ইসলামি বই পৌঁছে দেওয়া।

‘ইসলাম বাই টাচ’ উত্তর আমেরিকায় দৃষ্টিহীনদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে ইসলামি শিক্ষা ও সাহিত্য সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিষ্ঠানটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব ব্রেইলি কোরআন সার্ভিসের (আইবিকিউএস) সদস্য।

নিজেদের উদ্যোগ সম্পর্কে ইয়াদিরা জানান, তিনি সম্পূর্ণ দৃষ্টিহীন, আর তার স্বামী আইনগতভাবে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাদের তিন সন্তান রয়েছে। ক্যাথলিক পরিবারে বেড়ে ওঠা ইয়াদিরা ইসলাম গ্রহণকে জীবনের অন্যতম বড় আশীর্বাদ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইসলাম গ্রহণের পর কোরআনের ইংরেজি অনুবাদ, নবীদের জীবন ও ইতিহাস, হাদিস এবং ইসলামের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বই পড়ার আগ্রহ তৈরি হয় তার। কিন্তু দৃষ্টিহীন হওয়ায় বইয়ের পরিবর্তে তাকে সাধারণত অডিও রেকর্ডিং শুনতে বলা হতো। যদিও অনেক মুসলিম তাকে সহযোগিতা করেছেন, তবু দৃষ্টিহীন মুসলিমদের জন্য ব্রেইলভিত্তিক ইসলামি সাহিত্য প্রয়োজন—এ বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে মনে করেন তিনি।

ইয়াদিরার মতে, পড়তে পারার সক্ষমতা মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত। বই নিজে পড়ার সুযোগ মানুষকে নিজের পরিচিত জগতের বাইরে নতুন বিষয় জানার এবং নিজের চিন্তাকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ দেয়। একই সাথে কোনো বিষয় নিজের মতো করে পড়ে বোঝা ও তা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার স্বাধীনতাও তৈরি হয়।

তিনি মনে করেন, দৃষ্টিহীন মুসলিমদের ব্রেইল পদ্ধতিতে ইসলামি বই পড়ার সুযোগ দেওয়া হলে তারা দৃষ্টিসম্পন্ন মুসলিমদের মতোই নিজে পড়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবেন। এতে ইসলামের শিক্ষা ও জ্ঞানের সাথে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হবে।

ইয়াদিরার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামি গ্রন্থ সহজলভ্য হলে দৃষ্টিহীন মুসলিমরা মুসলিম সমাজে আরও সক্রিয় ও অর্থবহ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন। উম্মাহর একজন মর্যাদাপূর্ণ সদস্য হিসেবে তাদের অংশগ্রহণও আরও দৃঢ় হবে।

দৃষ্টিহীন মুসলিমদের জন্য এই সুযোগ তৈরি করাই ইয়াদিরা ও তার স্বামীর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তাদের সংগঠনের মাধ্যমে ব্রেইল পদ্ধতিতে কোরআন ও ইসলামি সাহিত্য পৌঁছে দেওয়ার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

তথ্যসূত্র: ইসলাম বাই টাচ ডটকম