সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গড়ে ওঠা দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজিয়েছে কিংবা যেসব অফিসকে দুর্নীতির আখড়া মনে করা হচ্ছে, প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব জায়গায় কর্মকর্তাদের বদলি করা হবে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর নির্ধারিত পদে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি কার্যক্রমের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি শুধু প্রশাসনিক রদবদল নয়, এটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থার অংশ। যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজিয়েছে, সেখানে কর্মকর্তাদের পরিবর্তন করা হবে। আর জনমনে যেসব জায়গা দুর্নীতির আখড়া হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে, সেসব জায়গায় দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘যেখানে দুর্নীতির শিকড় গজায়, সেখানে আমরা এখন লোক পরিবর্তন করব। ধরেন, আমার হাতে এক বাক্স ফল আছে, ১২ জন লোক ও ১২টা ফল আছে বা তার চেয়ে কম ফল আছে। আমাকে তো পুনর্বণ্টন করতে হবে। যে জায়গাকে আমরা মনে করছি পাবলিক পারসেপশনে দুর্নীতির আখড়া, সেই জায়গায় দুর্নীতির সিন্ডিকেট ভাঙার জন্য আমাদের এ প্রক্রিয়া।’
সাব-রেজিস্ট্রারদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণসহ মন্ত্রণালয়কে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে তদন্ত করা হয়। তবে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে হয়রানি করতে চায় না সরকার।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গণমাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রারদের দুর্নীতি নিয়ে যেসব প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। পরে মন্ত্রণালয় নিজস্বভাবেও তদন্ত করেছে। কিন্তু অনেক অভিযোগের ক্ষেত্রেই সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, ‘ধরেন, বলা হচ্ছে অমুক সাব-রেজিস্ট্রার টাকার পাহাড় গড়ে তুলছেন, অমুক সাব-রেজিস্ট্রারের এতগুলো ট্রাক আছে। তাহলে ওই ট্রাকের পার্টিকুলারস তো দিতে হবে। অমুক অমুক জায়গায় তিনি এগুলো করছেন সেটিও সুনির্দিষ্টভাবে দিতে হবে। কার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, সেটার তথ্যও দিতে হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যে যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগের, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে সাংবাদিক পরিচয়ে কেউ কেউ টাকা বা মাসোহারা দাবি করছেন এমন অভিযোগ মন্ত্রণালয়ে এসেছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনাদের মধ্য থেকেও কেউ কেউ গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রারদের কাছ থেকে টাকা চাচ্ছেন, মাসোহারা চাচ্ছেন এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। না দিলে তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করছেন এমন অভিযোগও আছে। তবে আমরা সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কোনো বিষয়ে এগোইনি।’ এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের সময় দলিল লেখকদের নেওয়া ফি নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, দলিল লেখকদের জন্য নির্ধারিত ফি কত এবং বাস্তবে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হলে তা পর্যালোচনা করা হবে।
গণমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শুধু আইন মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলেই দুর্নীতি কমানো সম্ভব নয়। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মানসিকতার পরিবর্তন এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।’
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়নের এ উদ্যোগের ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। এতে দুর্নীতি কমেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তিনি জানান, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের আওতায় রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে তা মন্ত্রণালয়কে জানাতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।



