ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে তিতাস নদীর মাঝখানে নৌকায় নিয়ে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীসহ দুই নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাকিব নামে এক যুবককে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচজনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার চান্দিনা এলাকার ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী একটি নৃত্যদলের সদস্য। সরাইল উপজেলার একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য তার দলকে ৯ হাজার টাকায় চুক্তি করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী গত ১০ সেপ্টেম্বর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি দলের দুই সদস্যকে সাথে নিয়ে সরাইলে আসেন।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, অনুষ্ঠানের আয়োজকদের পক্ষ থেকে রাকিব নামের এক যুবক তাদের শাহবাজপুর সেতুর নিচে নিয়ে যান। সেখানে রাকিবসহ আরও পাঁচজন দ্রুত নদীপথে অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাদের একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ওঠান।
নৌকাটি সেতু থেকে প্রায় ৩০-৪০ গজ দূরে নদীর মাঝামাঝি পৌঁছানোর পর ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে দুই নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। তাদের সাথে থাকা এক পুরুষ সদস্য বাধা দিতে গেলে তার গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও এজাহারে বলা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত নৌকার ভেতরে তাদের ওপর একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে নাসিরনগর উপজেলার গোকর্ণঘাট এলাকায় নদীর পাড়ে তাদের নামিয়ে দিয়ে অভিযুক্তরা চলে যান।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীরা নাসিরনগর থানায় গেলে ঘটনাস্থল সরাইল থানার অধীন হওয়ায় তাদের সরাইল থানায় মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীর দেওয়া এজাহারের ভিত্তিতে ১১ সেপ্টেম্বর সরাইল থানায় মামলা করা হয়।
মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় করা হয়েছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঞ্জুর কাদের ভূইয়া বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


