চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের আতঙ্ক ও সাজ্জাদ বাহিনীর অন্যতম মূলহোতা শুটার রায়হান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে গেলেও তার সহযোগী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ইমনকে গ্রেফতার করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, কারাবন্দী 'ছোট সাজ্জাদ'-এর অনুপস্থিতিতে পুরো বাহিনীর কিলিং স্কোয়াড পরিচালনার দায়িত্বে আসেন রায়হান ও ইমন। এর মধ্যে রায়হান একজন দুর্ধর্ষ শুটার হিসেবে পরিচিত। যেকোনো টার্গেট কিলিং শেষ করে রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার গোপন আস্তানায় আত্মগোপন করাই তার প্রধান কৌশল। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে আছেন এই রায়হান।
পুলিশের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় কয়েকটি হত্যাকাণ্ডসহ দেড় ডজনেরও বেশি মামলার আসামি এই রায়হান।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, রায়হান ও ডেভিড ইমনসহ এই দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী চক্রকে ধরতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর থেকে ইমনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হলেও, নোয়াখালীতে পরিচালিত আরেকটি অভিযানে অল্পের জন্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় শুটার রায়হান। তাকেও দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকা থেকে চার রাউন্ড গুলি ও একটি বিদেশি পিস্তলসহ এই বাহিনীর দুই সদস্য মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেফতার করে সিএমপি।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আসিফের কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি এবং আরিফের কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। তারা দুজনেই স্বীকার করেছে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন ও শুটার রায়হানের নির্দেশেই তারা চট্টগ্রামজুড়ে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।


