কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জটিল রোগে আক্রান্ত সন্তানকে বাঁচাতে নিজের লিভার দিতে প্রস্তুত হয়েছেন মা। তবে ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছিল পরিবারটি। এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনা নিয়ে Times Today-তে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের। এরপর শিশুটির চিকিৎসায় মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউনিয়নের কোষাকান্দা গ্রামের বাসিন্দা বীথি আক্তারের সন্তান জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন। শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে পরিবার। সন্তানের জীবন বাঁচাতে মা বীথি আক্তার নিজের লিভার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে চরম সংকটে পড়ে পরিবারটি।
এ অবস্থায় শিশুটির চিকিৎসায় সহায়তার আকুতি জানিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি Times Today-তে প্রকাশিত হলে তা সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে বিষয়টি কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নজরে আসে।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে শিশুটির চিকিৎসায় সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন।
এরই ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির মা বীথি আক্তারের হাতে চিকিৎসা সহায়তার চেক তুলে দেন জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন।
সরকারি সহায়তা পাওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে অসহায় পরিবারটির মাঝে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে মায়ের ত্যাগের প্রস্তুতি এবং সেই পরিবারের পাশে সরকারি প্রশাসনের দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা কিশোরগঞ্জে সৃষ্টি করেছে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অসহায় মানুষের দুঃসময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে-এমন ধারণার বাইরে গিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয়। বিশেষ করে চিকিৎসার মতো সংকটময় সময়ে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ববোধেরই বহিঃপ্রকাশ।
পরিবারের সদস্যরা জানান, সংবাদ প্রকাশের আগে তারা চিকিৎসার ব্যয় নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সংবাদটি প্রকাশের পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসায় তারা সরকারি সহায়তা পেয়েছেন। এজন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিশুটির চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
একটি সংবাদ, একটি পরিবারের আকুতি-আর সেই আকুতিতে সাড়া দিয়ে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দিল জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সাধারণ মানুষ। তাদের মতে, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে অসহায় মানুষের সংকটে এভাবে পাশে দাঁড়ানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় উদ্যোগ।
তবে শিশুটির চিকিৎসা এখনো দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল। তাই সন্তানের জীবন বাঁচাতে মায়ের এই ত্যাগের প্রস্তুতির পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসায় সমাজের সামর্থ্যবান মানুষদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে পরিবার।
শিশুটির দ্রুত সুস্থতা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য সবার কাছে দোয়া এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারের সদস্যরা।


