...|...|...

রাজনীতি

জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার সংগ্রাম শুরু হয়েছে: জামায়াত আমির

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৩৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৪:৪৪
Shares
জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার সংগ্রাম শুরু হয়েছে: জামায়াত আমির

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ধরনের যেকোনো ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টা দেশের জনগণকে সাথে নিয়ে তছনছ করে দেওয়া হবে। 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘জুলাই আন্দোলন’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, জুলাই ইস্যু ভুলিয়ে দেওয়ার জন্য নানা লোভ, টোপ ও প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তবে আমাদের সোজা-সাপ্টা কথা হলো, জনগণের রায় মানতে হবে, এর বাইরে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো রায় নেই এবং যাওয়ার কোনো সুযোগও নেই। আমরা জাতির সাথে কোনো ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না। জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় সরকার মানবে না কেন? ইনশাআল্লাহ এই রায় অবশ্যই মানতে হবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এতগুলো খুন, গুম ও নির্যাতনের বিচার কার্যক্রম এখন অনেকটাই স্টবির হয়ে পড়েছে।

আগের সরকারের আমলের যেটুকু গতি ছিল, বর্তমান সময়ে সেটাও আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সংসদে জুলাই স্মৃতি জাদুঘর খুলে দেওয়ার দাবি জানালেও সরকারের পক্ষ থেকে ৫ আগস্ট খুলে দেওয়ার কথা বলা হলেও ৪ আগস্টেও তার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না। তাহলে কি জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার নিরন্তর কোনো সংগ্রাম শুরু হয়েছে? যদি সেরকম কিছু হয়ে থাকে, তবে দেশবাসীকে সাথে নিয়ে তা তছনছ করে দেওয়া হবে। জীবন তো একটাই, সেই জীবন জাতির কল্যাণে উৎসর্গ হোক।

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে যার যে অবদান রয়েছে, তা সঠিকভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, একাত্তরের ৫৫ বছর পরও এখনো মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা তৈরি হয়নি। আমরা এত লাখ এত লাখ বলছি, কিন্তু তার কোনো স্থায়ী রেকর্ড হচ্ছে না। অথচ এটা সরকারের মূল দায়িত্ব। একাত্তরের মতো চব্বিশের অর্জন যেন হারিয়ে না যায়, সে জন্যই এই বই প্রকাশের উদ্যোগকে তিনি মোবারকবাদ জানান।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সঠিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কণ্ঠে ৫ আগস্টের পর থেকে যে সুর ছিল, তা আস্তে আস্তে বদলে যাচ্ছে। বিশেষ করে এবছরের ১২ ফেব্রুয়ারির পর তা ব্যাপকভাবে পাল্টে গেছে। আগে যারা যেসব কথা ও অঙ্গীকার করেছিলেন, অনেকে এখন তা বেমালুম ভুলে গিয়ে ঠিক বিপরীতে গিয়ে ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করছেন।

সরকারের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জামায়াত আমির বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের গায়ে হাত দেবেন না। যে জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কারণে আজ আপনারা সরকারে বসেছেন, তাদের চোখ কেড়ে নেবেন না, হাত-পা ভাঙবেন না এবং এক ফোঁটা রক্তও ঝরাবেন না। যদি রক্ত ঝরান, তবে সেটি হবে চরম নিমকহারামি। যাদের রক্ত ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজকের এই পর্যায়ে এসেছে, তাদের ভুলে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

আমরা জাতিকে কথা দিচ্ছি, আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমাদের যেটুকু সামর্থ্য আছে, তার সবটুকু উজাড় করে দেব। এখানে কোনো আপস করা হবে না। তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে যেকোনো প্রশ্নে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে রাজি আছি, তবে জনগণের কোনো অধিকার বিসর্জন দিয়ে তা হবে না। কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না ইনশাআল্লাহ। এর জন্য প্রয়োজনে ফাঁসির তক্তা বা আয়নাঘরে যেতেও আমরা প্রস্তুত।

আইআরডি উপদেষ্টা ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির মো. নূরুল বুলবুল, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানসহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।