জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বটতলা এলাকার সুজন হোটেলের কর্মচারীদের গাঁজা তৈরি ও সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হল প্রশাসন। তদন্তে উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে হোটেলটিতে কয়েকজন কর্মচারী গাঁজা তৈরি ও সেবন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দুজনকে গাঁজা প্রস্তুত করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় হোটেলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে হল প্রশাসন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, এর আগেও হোটেলটিতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও গাঁজা সেবনের অভিযোগ উঠেছিল। এসব বিষয়ে হোটেল মালিককে সতর্ক করা হলেও পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে তখন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হোটেল মালিক সুজন বলেন, বিষয়টি জানার পর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তিনি দোকানে গিয়ে গাঁজা সেবনের আলামত দেখতে পান। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের দোকান থেকে বের করে দেন। তাঁদের আর কাজে রাখা হয়নি বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এমন ঘটনা ঘটলেও প্রক্টরকে অবহিত না করে নিজেই কর্মচারীদের বের করে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সুজন বলেন, ‘এটা আমার ভুল হয়েছে। এরপর থেকে এমন ভুল আর করব না। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় স্যারকে জানাতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হালিম বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি। দোকানটি শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হল প্রশাসনের আওতাধীন। তাই হলের প্রভোস্টকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
হলটির প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম প্রান্তিক বলেন, ‘ভিডিওতে হোটেলের কর্মচারীদের গাঁজা প্রস্তুত করতে দেখা যাচ্ছে। এর আগেও নিম্নমানের খাবার পরিবেশন ও গাঁজা সেবনের অভিযোগে হোটেল মালিককে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে তখন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপযুক্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


