ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ ও জগন্নাথ কলেজের (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) সাবেক শিক্ষার্থী রফিক উদ্দিন আহমেদের জন্মশতবার্ষিকীতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন আয়োজন। এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
তিনি ১৯২৬ সালের ৩০ অক্টোবর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার পারিল বলধারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান এই তরুণ। ভাষার জন্য তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে রচিত হয় বাঙালির ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়।
রফিক উদ্দিন আহমেদ ছিলেন তৎকালীন জগন্নাথ কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত। তার স্মৃতি ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি ভবনের নামকরণ করা হয়েছে ‘ভাষাশহিদ রফিক ভবন’। বর্তমানে ভবনটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তবে তার জন্মশতবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো আয়োজন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
এ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, যেহেতু আগে কোন বার বিশ্ববিদ্যালয়ে জগন্নাথ কলেজ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এর শিক্ষার্থী ও ভাষা প্রথম শহিদ রফিক উদ্দিন আহমেদের জন্মশতবার্ষিকী পালন করা হয়নি। তাই আমরা এটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। আমরা আগামীবার থেকে পালন করব এবং এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারে ছুটির দিন হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করব।
জকসু সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও শাখা শিবির সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ বলেন, রফিক ভাই আমাদের আইডল ছিলেন। ৩০ শে অক্টোবর বার তার জন্মশতবার্ষিকী গেছে এটা প্রশাসনের জানা উচিত ছিল। এখানে প্রশাসনের ঘাটতি ছিল আমরা জকসুর পক্ষ থেকেও কোন আয়োজন করিনি। আমাদেরও জানার গ্যাপ ছিল। পরবর্তীতে এ দিবসটি যাতে পালন করা হয় এ বিষয়ে আমরা ভিসিকে অবগত করব। এবং আমাদের সংগঠন থেকেও তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল করব, ইনশাল্লাহ।
ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, এর আগে যেহেতু কোনো বার বিশ্ববিদ্যালয়ে এ দিবসটি পালন করা হয়নি। তাই আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ দিনটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিবস হিসেবে ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য স্মারকলিপি প্রদান করব। যেহেতু তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ ছিলেন তাকে স্মরণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবশ্য কর্তব্য আশা করি পরবর্তীতে তারা এ দিকটি খেয়াল রাখবেন।
উল্লেখ্য, ১৯২৬ সালে জন্ম নেওয়া রফিক উদ্দিন আহমেদ ১৯৪৯ সালে মাধ্যমিক পাসের পর দেবেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। পরে পারিবারিক প্রয়োজনে ঢাকায় এসে বাবার মুদ্রণশিল্পের ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি জগন্নাথ কলেজে (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভেঙে বের হওয়া মিছিলে অংশ নেন তিনি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ছাত্রাবাস এলাকায় পুলিশের গুলিতে মাথায় আঘাত পেয়ে মাত্র ২৫ বছর বয়সে শহিদ হন রফিক। ভাষা আন্দোলনে আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০০ সালে তাকে মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।
তার জন্মস্থান মানিকগঞ্জের পারিল গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রফিকনগর রাখা হয়েছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার নামে একটি ভবনের নামকরণ করা হয়েছে, যা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক সম্পর্ক স্মরণ করিয়ে দেয়।


