...|...|...

বিনোদন

চাটনি বিক্রি থেকে কোটি টাকার সম্পদ, সোনালির অজানা অধ্যায়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১২:১৩
Shares
চাটনি বিক্রি থেকে কোটি টাকার সম্পদ, সোনালির অজানা অধ্যায়

সোনালি কুলকার্নি। ছবি: সংগৃহীত

বলিউড অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নির জীবনের গল্পে রয়েছে সংগ্রাম, পরিশ্রম আর সাফল্যের এক ভিন্ন অধ্যায়। ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘মিশন কাশ্মীর’ ও ‘সিংহাম’-এর মতো সিনেমায় অভিনয় করে পরিচিতি পাওয়া এই অভিনেত্রীর শৈশব কেটেছে সাধারণ এক পরিবারে। সংসারের খরচ চালাতে তার মা কখনো চাটনি বিক্রি করেছেন, কখনো টিফিন তৈরি করেছেন, আবার বাড়িতে শিশুদের দেখাশোনার ব্যবস্থাও করেছিলেন। মায়ের সেই কাজে সহযোগিতা করতেন সোনালি। বর্তমানে নিজের উপার্জন, বিনিয়োগ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতন এই অভিনেত্রীর সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম।

সম্প্রতি ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের অভিজ্ঞতা, পরিবারের আর্থিক অবস্থা এবং আয়করসংক্রান্ত একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন সোনালি। তিনি জানান, অভিনয়জীবনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর আয়কর দপ্তরের নোটিশ পেয়ে জরিমানাও দিতে হয়েছিল তাকে। সেই জরিমানার টাকা পরিশোধের জন্য চেক লেখার সময় কেঁদে ফেলেছিলেন অভিনেত্রী। ওই অভিজ্ঞতা থেকেই উপার্জনের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও করব্যবস্থা সম্পর্কে জানার গুরুত্ব উপলব্ধি করেন তিনি।

সংসার চালাতে নানা কাজ করতেন মা

শৈশবে পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতা খুব কাছ থেকে দেখেছেন সোনালি। সংসারের ব্যয় মেটাতে তার মাকে একাধিক কাজ করতে হতো। কখনো চাটনি তৈরি করে বিক্রি করতেন, কখনো টিফিন বানাতেন। পাশাপাশি বাড়িতে শিশুদের দেখাশোনার জন্য একটি ডে-কেয়ার সেন্টারও চালাতেন তিনি। মায়ের এসব কাজে সহযোগিতা করতেন সোনালি।

নিজেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থার কথা জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমার পরিবার খুবই সাধারণ ছিল। আমাদের কখনো এত টাকা ছিল না যে আয়কর দিতে হবে। সংসার চালাতে মা চাটনি বিক্রি করতেন, টিফিন বানাতেন। বাড়িতে একটি ডে-কেয়ার সেন্টারও ছিল। আমি ছিলাম মায়ের প্রধান সহকারী।’

মায়ের পরিশ্রম ও সংসার চালানোর সংগ্রাম ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন সোনালি। পরিবারের প্রয়োজনে মাকে নানা কাজ করতে দেখে পরিশ্রমের গুরুত্ব বুঝতে শেখেন তিনি। পরবর্তী সময়ে কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এই অভিজ্ঞতা তাকে শিক্ষা দিয়েছে।

আয়কর দপ্তরের নোটিশ পেয়ে কেঁদেছিলেন সোনালি

অভিনয়জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর একসময় আয়কর দপ্তরের নোটিশ পান সোনালি। সেই সাথে জরিমানাও দিতে হয় তাকে। আগে কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হওয়ায় ঘটনাটি তার মনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। জরিমানার অর্থ পরিশোধের জন্য চেক লেখার সময় আবেগ সামলাতে পারেননি তিনি।

সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে সোনালি বলেন, ‘একদিন আয়কর দপ্তরের নোটিশ পেলাম। জরিমানাও দিতে হয়েছিল। চেক লেখার সময় সেদিন আমি খুব কেঁদেছিলাম। কখনো কল্পনাও করিনি যে এত টাকা উপার্জন করব। বিষয়টি ভীষণ খারাপ লেগেছিল। তবে সেদিনই বুঝতে পারি, উপার্জন করতে পারলে বিনিয়োগ সম্পর্কেও জানতে হবে, করব্যবস্থাও বুঝতে হবে।’

যে পরিবারে একসময় আয়কর দেওয়ার মতো আয় ছিল না, সেই পরিবারের মেয়েকেই একদিন নিজের উপার্জনের ওপর কর দিতে হচ্ছে বিষয়টি সোনালির কাছে ছিল আবেগঘন এক উপলব্ধি। একই সাথে অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি তা সঠিকভাবে পরিচালনা করার প্রয়োজনীয়তাও বুঝতে পারেন তিনি।

স্বামীর সাথে অর্থ আলাদা রাখেন

বর্তমানে অর্থ বিনিয়োগ ও আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে বেশ সতর্ক সোনালি। নিজের উপার্জনের অর্থ আলাদা রাখেন তিনি। এমনকি স্বামী নাচিকেতের সাথে সংসার করলেও দুজনের অর্থ একসাথে মিশিয়ে রাখেন না বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

নিজের আর্থিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সোনালি বলেন, ‘এখন আমি বিচক্ষণতার সাথে বিনিয়োগ করি। নিজের টাকা সব সময় আলাদা রাখি। নাচিকেত আর আমি আমাদের অর্থ একসাথে মিশিয়ে ফেলি না।’

অর্থনৈতিক বিষয়ে নিজের সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি উপার্জনের অর্থ কীভাবে বিনিয়োগ করতে হয়, সে বিষয়েও সচেতন থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এখন কত টাকার মালিক সোনালি

ভারতীয় গণমাধ্যম মানিকন্ট্রোলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোনালি কুলকার্নির সম্পদের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে হিন্দিসহ বিভিন্ন ভাষার সিনেমায় কাজ করেছেন তিনি। ‘দিল চাহতা হ্যায়’, ‘মিশন কাশ্মীর’ ও ‘সিংহাম’-এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের কাছে পরিচিতি পেয়েছেন সোনালি। বড় পর্দার পাশাপাশি টেলিভিশনেও কাজ করেছেন তিনি।

অভিনয়জীবনের সাফল্য থেকে আসা উপার্জনই তার সম্পদের অন্যতম প্রধান উৎস। সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে নিজের উপার্জন ও বিনিয়োগের বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠা সোনালির জীবনযাত্রায় সেই দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা স্পষ্ট।