দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগামী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায় ২০ ফুট নিচে একটি ড্রেনে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮ জন তীর্থযাত্রী নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে রাজস্থানের কোটা জেলার সীমলিয়া থানা এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের বৈতুল জেলা থেকে তীর্থযাত্রীদের নিয়ে গাড়িটি রাজস্থানের সিকার জেলার বিখ্যাত খাতু শ্যাম মন্দিরের দিকে যাচ্ছিল।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, টেম্পো ট্রাভেলারটিতে প্রায় ২০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই মধ্যপ্রদেশের বৈতুল জেলার বাসিন্দা। গত শুক্রবার রাতে তারা খাতু শ্যাম মন্দির দর্শনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন।
হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্যমতে, সীমলিয়া থানার স্টেশন হাউস অফিসার নন্দ সিং জানান, করাড়িয়া টোল প্লাজা অতিক্রম করে সুলতানপুরের দিকে যাওয়ার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর গাড়িটি ডিভাইডার ভেঙে প্রায় ২০ ফুট নিচে একটি মৌসুমী ড্রেনে পড়ে গিয়ে একটি দেয়ালে সজোরে ধাক্কা খায়।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই চার যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়, যার ফলে বেশ কয়েকজন যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন। চালক গাড়ি চালানোর সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলেন কি না, পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
খবর পেয়ে স্থানীয় গ্রামবাসী ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরবর্তীতে পুলিশ, ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়া-এর উদ্ধারকর্মী এবং জরুরি অ্যাম্বুলেন্স দলগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয়। এছাড়া দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি উদ্ধারে একটি এনএইচএআই ক্রেন মোতায়েন করা হয়।
সুলতানপুর ব্লকের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা রাজেশ সমর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে চারটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কোটা মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন নিউ হাসপাতাল এবং এমবিএস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


