...|...|...

সারাদেশ

চরভদ্রাসনে কিশোররা বেপরোয়া, তুচ্ছ বিষয়েই জড়াচ্ছেন সংঘাতে

তাওহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:২৬ | আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৩৬
Shares
চরভদ্রাসনে কিশোররা বেপরোয়া, তুচ্ছ বিষয়েই জড়াচ্ছেন সংঘাতে

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় কিশোরদের দলবদ্ধ চলাফেরা, আড্ডা ও বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশ, সড়ক ও নিরিবিলি এলাকায় সন্ধ্যার পর কিশোরদের জটলা ও আড্ডা দিতে দেখা যায় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের দাবি, কিশোরদের একটি অংশ তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে পরস্পরের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ছে। পাশাপাশি উচ্চ শব্দে মোটরসাইকেল চালানো, সড়কে বেপরোয়া চলাফেরা এবং পথচারীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের মতো ঘটনাও ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডে বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চরভদ্রাসন সদর ইউনিয়ন ও গাজীরটেক ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা ও চলাফেরা বেশি চোখে পড়ছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত সবাই অপরাধে যুক্ত-এমনটি মনে করেন না স্থানীয়রা। তাদের মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে কিছু কিশোর বিপথে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

অভিভাবকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিবারের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাব, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, অবসর সময়ের যথাযথ ব্যবহার না করা এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সীমিত সুযোগ-এসব বিষয় কিশোরদের আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কিশোরদের সময়কে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ বলছেন, কিশোরদের আড্ডার বিষয়টি শুরুতেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ ছোটখাটো বিরোধ বা বিশৃঙ্খল আচরণ সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে তা পরবর্তীতে বড় ধরনের সমস্যার কারণ হতে পারে। একই সাথে কিশোরদের সাথে কঠোরতার পাশাপাশি কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সচেতনতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তারা।

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সফর আলী বলেন, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ নজরদারি করছে। কেউ অপরাধে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ বলেন, কিশোরদের বিপথগামী হওয়া ঠেকাতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

সচেতন মহলের মতে, কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা বা বিশৃঙ্খল আচরণকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে এর স্থায়ী সমাধান কঠিন হতে পারে। এর পেছনে থাকা পারিবারিক, সামাজিক ও বিনোদনমূলক সুযোগের ঘাটতির বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তাদের মতে, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়ানো গেলে কিশোরদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা সম্ভব। পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা ও বন্ধু-বান্ধবের বিষয়ে সচেতন নজর রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, কিশোরদের অপরাধপ্রবণতার কারণগুলো শুরুতেই চিহ্নিত করে পরিবার ও সমাজের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব। অপরাধে জড়িতদের ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনমূলক উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।

চরভদ্রাসনের কিশোরদের ঘিরে তৈরি হওয়া এই উদ্বেগ এখন স্থানীয়দের কাছে একটি সামাজিক বিষয় হয়ে উঠেছে। তাই শুধু অভিযান নয়, নজরদারি, পারিবারিক সচেতনতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং কিশোরদের জন্য ইতিবাচক পরিবেশ তৈরির সমন্বিত উদ্যোগই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।