...|...|...

সারাদেশ

থানার সামনে পার্কিং করা বাসে আগুন, কারণ জানে না পুলিশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:৪৮
Shares
থানার সামনে পার্কিং করা বাসে আগুন, কারণ জানে না পুলিশ

থানার সামনে পার্কিং করা বাসে আগুনের কারণ জানে না পুলিশ। ছবি: টাইমস টুডে

ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নির্মাণাধীন ফরিদপুরের করিমপুর হাইওয়ে থানার সামনে পার্কিং করা পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন তার কোনো কারণ জানাতে পারছে না পুলিশ।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টা দিকে এ ঘটনা ঘটে। গত ৩ সেপ্টেম্বর দুর্ঘটনাকবলিত হওয়ার পর থেকে বাসটি হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে ছিল।

থানা পুলিশ, এলাকাবাসী ও হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের মেছড়দিয়া মোড় এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে একটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে বাসটি। এ দুর্ঘটনায় সেদিন বাসের সুপারভাইজার নিহত হন। এরপর ওইদিন থেকেই বাসটি করিমপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে ছিল।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাতে আকস্মিকভাবে বাসটিতে আগুন জ্বলতে দেখে তারা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তবে আগুনের কারণ সম্পর্কে তারা নিশ্চিত করতে পারেননি।

পূর্বাশা পরিবহনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখেন বাসটির ৮০ শতাংশই ভস্মীভূত হয়ে গেছে। বাসটিতে কোনো দাহ্য পদার্থ এমনকি ব্যাটারিও ছিল না। তাই শকসার্কিট হয়ে আগুন লাগার কোনো সম্ভাবনা ছিল না। তিনি দাবি করেন, পরিকল্পিতভাবেই দুর্বৃত্তরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া ফরিদপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার হোসেন শিথিল বলেন, কয়েকদিন ধরেই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্যরা ফরিদপুর সদরে তৎপরতা দেখাচ্ছে। নিষিদ্ধ সংগঠনের একটি সহযোগী সংগঠনের আহ্বান করা কর্মসূচি সফল করতে বা ভীতি সৃষ্টি করতে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাই।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা শ্রীবাস বাড়ৈ বলেন, ‘বাসটি আগুনে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন কীভাবে ধরেছে, এই কারণটি আমাদের কাছে অজানা। কেউ আগুন ধরিয়ে দিতে পারে, কয়েল বা সিগারেটের আগুন থেকেও ধরতে পারে বা অন্য যেকোনো কারণে ‘যেকোনোভাবে’ আগুন ধরেছে। এটা তদন্ত করে পরে বোঝা যাবে।’

এ বিষয়ে করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম বলেন, আগুনের খবর পেয়ে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে বাসটি জ্বলছে। পরে আগুন নেভানো হলেও বাসটি পুড়ে গেছে।

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, বাসটি যেখানে রাখা ছিল সেটি সিসি ক্যামেরার আওতায় ছিল না। পাশাপাশি জায়গাটি খুব জনবহুল নয়। আশপাশে সিসি ক্যামেরা পাওয়াও কঠিন। তবুও আমরা প্রযুক্তিগত ও সনাতনি দুই উপায়ে এই আগুন কীভাবে ধরল, সেই কারণ উদ্‌ঘাটন এবং এর পেছনে কোনো দুষ্কৃতকারী জড়িত আছে কি-না তা দেখা হবে।

এঘটনার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদকর্মীদের সাথে কথা বলতে চাননি। এ বিষয়ে পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।