চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও শিল্প পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা নিরসনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে মতবিনিময় করেছে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। সংস্থাটির নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজাধীন জোনগুলো থেকে ৮ দশমিক ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় ২ দশমিক ২২ শতাংশ বেশি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) চট্টগ্রামের একটি হোটেলে আয়োজিত ‘মিট দ্য ইনভেস্টরস’ অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে বেপজাধীন পাঁচটি জোনের শতাধিক দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী অংশ নেন।
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, বিনিয়োগকারীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ তাদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জানার পাশাপাশি অংশীদারত্ব জোরদারের সুযোগ তৈরি করে। এর মাধ্যমে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও ব্যবসাবান্ধব করা সম্ভব।
বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ও সরবরাহব্যবস্থার চ্যালেঞ্জের কারণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বাধার মধ্যেও বিনিয়োগকারীরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বেপজার নির্বাহী চেয়ারম্যান জানান, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের সাথে বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সংস্থাটি। একই সাথে বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও ২ এবং যশোর ও পটুয়াখালী ইপিজেডকে পূর্ণাঙ্গ জোন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি নতুন জোনগুলোতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বেপজার সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) মো. তানভীর হোসেন সংস্থাটির বিনিয়োগ আকর্ষণ, রফতানি বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর এবং বিনিয়োগকারীদের সেবা সহজীকরণে নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরেন।
চালু জোনগুলোতে জমির সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বেপজা জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি একর জমিতে বেপজা ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে। প্রতি একর জমি থেকে বছরে ১৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার রিটার্ন অর্জিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শ্রমিক কল্যাণ, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক, শ্রম আইন সংস্কার ও শিল্প পরিচালনার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বক্তব্য দেন বেপজার অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (এন্টারপ্রাইজ সার্ভিসেস ও শিল্প সম্পর্ক) মো. নাজমুল ইসলাম ভূঁইয়া। এ সময় ৪৫টি অনলাইন সেবা, ২৪ ঘণ্টা চালু হেল্পলাইন ১৬১২৮ এবং এমপ্লয়মেন্ট ইনজুরি স্কিম বাস্তবায়নের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, কুমিল্লা ইপিজেড, বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-১ ও বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চল-২-এর বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। পরে বেপজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উন্মুক্ত আলোচনা হয়। এতে শিল্প পরিচালনার প্রতিবন্ধকতা, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, শ্রম আইন ও সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। আন্তর্জাতিক শ্রমমান বজায় রেখে বিনিয়োগকারী ও শ্রমিক উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে বেপজা।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের রফতানিমুখী শিল্পায়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখছে বেপজা। বর্তমানে সংস্থাটির আটটি ইপিজেড ও দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৩৮টি দেশের বিনিয়োগ রয়েছে। এসব জোনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭ দশমিক ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ক্রমপুঞ্জীভূত রফতানি প্রায় ১৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশের মোট রফতানিতে বেপজাধীন জোনগুলোর অবদান প্রায় ২০ শতাংশ এবং মোট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগে (এফডিআই) বেপজার অবদান ১৯ দশমিক ১৭ শতাংশ।


