খাগড়াছড়ি জেলা শহরের ইসলামপুর এলাকায় একটি বসতবাড়ি থেকে বিরল প্রজাতির একটি চিতা বিড়াল উদ্ধার করেছে বন বিভাগ।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরে সেটিকে খাগড়াছড়ির আলুটিলা সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ইসলামপুর এলাকায় একটি চিতা বিড়াল লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে বন বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। এ সময় চিতা বিড়ালটি বন বিভাগের দুই কর্মীকে কামড়ে আহত করে। পরে উদ্ধার করা প্রাণীটিকে আলুটিলার সংরক্ষিত বনে অবমুক্ত করা হয়।
তবে বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পর সরাসরি অবমুক্ত করার আগে প্রাণীটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীরা।
পিটাছড়া বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ উদ্যোগ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা মাহফুজ রাসেল বলেন, কোনো বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পর সেটি অসুস্থ বা শারীরিকভাবে দুর্বল মনে হলে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে পুনর্বাসন বা পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেওয়ার পর সুস্থ হলে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা উচিত।
তিনি বলেন, বন বিভাগের বন্যপ্রাণীর চিকিৎসার জন্য আলাদা কোনো কেন্দ্র নেই। পিটাছড়ায় বন্যপ্রাণীর সুরক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। উদ্ধার করা চিতা বিড়ালটিকে কয়েকদিন পর্যবেক্ষণে রেখে শারীরিক অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর অবমুক্ত করা হলে ভালো হতো। প্রাণীটিকে উদ্ধারের সময় কিছুটা অসুস্থ মনে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকর্মীদের মতে, লোকালয়ে ঢুকে পড়া বন্যপ্রাণী উদ্ধারের ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত উদ্ধার ও অবমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; প্রাণীটির আঘাত, অসুস্থতা ও স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরে যাওয়ার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণীর ক্ষেত্রে উদ্ধার-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।


