ফোনে ভিডিও কল করা, ভয়েস মেসেজ পাঠানো, ছবি তোলা কিংবা কোনো কিছু রেকর্ড করার জন্য আমরা প্রতিনিয়ত অনেক অ্যাপকেই ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকি।
কিন্তু কখনো কি খেয়াল করেছেন, যেসব অ্যাপের কাজের সাথে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোনের আদৌ কোনো সম্পর্ক নেই, সেগুলোও হয়তো এই পারমিশন চেয়ে বসে আছে?
সুখবর হলো, আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনে এখন খুব সহজেই দেখা যায় কোন অ্যাপ কখন আপনার ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক পুরো প্রক্রিয়াটি।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে যেভাবে দেখবেন
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে কোনো অ্যাপ ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন চালু করলে সাধারণত স্ক্রিনের ওপরের দিকে একটি সবুজ রঙের প্রাইভেসি ইন্ডিকেটর ভেসে ওঠে। নোটিফিকেশন প্যানেল নিচের দিকে টেনে সেই ইন্ডিকেটরে চাপ দিলেই দেখা যাবে ঠিক কোন অ্যাপটি এই মুহূর্তে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে।

আরও বিস্তারিত তথ্যের জন্য যেতে হবে-
সেটিংস → প্রাইভেসি → প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড
এখানে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন অপশনে ট্যাপ করলে সাম্প্রতিক সময়ে কোন অ্যাপ কখন এগুলো ব্যবহার করেছে তার পুরো তালিকা দেখা যাবে।
এ ছাড়া নিচের পথ ধরে গেলে-
সেটিংস → প্রাইভেসি → পারমিশন ম্যানেজার → ক্যামেরা/মাইক্রোফোন
কোন কোন অ্যাপকে অনুমতি দেওয়া আছে তা দেখার পাশাপাশি চাইলে যেকোনো সময় সেই অনুমতি বাতিলও করা যায়। মনে রাখা ভালো, ফোনের ব্র্যান্ড ও অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণ ভেদে মেনুর নাম কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
আইফোনে কমলা ও সবুজ বিন্দু চিনে রাখুন
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বিষয়টি আরও দৃশ্যমান। কোনো অ্যাপ মাইক্রোফোন ব্যবহার করলে স্ক্রিনের ওপরে একটি কমলা রঙের বিন্দু জ্বলে ওঠে, আর ক্যামেরা ব্যবহার করলে দেখা যায় সবুজ বিন্দু।
কোন অ্যাপকে অনুমতি দেওয়া আছে তা দেখতে যেতে হবে-
সেটিংস → প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি → মাইক্রোফোন
সেটিংস → প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি → ক্যামেরা
এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের অনুমতি এক ট্যাপেই বন্ধ করে দেওয়া যায়।

আরও গভীরে জানতে চাইলে আইফোনের ‘অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট’ ফিচারটি চালু করে রাখা যেতে পারে-
সেটিংস → প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি → অ্যাপ প্রাইভেসি রিপোর্ট
এই ফিচার চালু থাকলে গত সাত দিনে কোন অ্যাপ ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, লোকেশন বা অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য কতবার অ্যাক্সেস করেছে, তার বিস্তারিত হিসাব পাওয়া যায়।
কোন পারমিশন সন্দেহজনক
হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার, জুম কিংবা ক্যামেরা অ্যাপের জন্য ক্যামেরা-মাইক্রোফোন পারমিশন চাওয়া স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। কিন্তু একটি সাধারণ ক্যালকুলেটর, ওয়ালপেপার অ্যাপ, টর্চলাইট বা অফলাইনে খেলার মতো গেম যদি হঠাৎ মাইক্রোফোন বা ক্যামেরা পারমিশন চেয়ে বসে, তাহলে সেটাই লাল পতাকা।

তবে একটা কথা মাথায় রাখা জরুরি- কোনো অ্যাপের কাছে পারমিশন থাকা মানেই এই নয় যে সেটি সবসময় গোপনে রেকর্ড করছে। পারমিশন শুধু অ্যাপটিকে সেই সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেয়, বাধ্যতামূলক ব্যবহার নয়। আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত- অ্যাপটির নিজের কাজের জন্য এই পারমিশন সত্যিই দরকার কি না। প্রয়োজন মনে না হলে সাথে সাথে বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
সন্দেহ হলে যা করণীয়
কোনো অ্যাপ অস্বাভাবিক সময়ে বা অকারণে ক্যামেরা-মাইক্রোফোন ব্যবহার করছে বলে মনে হলে-
১. প্রথমে পারমিশন বন্ধ করে দিন।
২. অ্যাপটি সত্যিই প্রয়োজন না হলে আনইনস্টল করে ফেলুন।
৩. ফোন ও সব অ্যাপ নিয়মিত আপডেট রাখুন।
৪. অচেনা ওয়েবসাইট বা থার্ড-পার্টি সোর্স থেকে অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন।
সম্ভব হলে অ্যান্ড্রয়েডে ‘অ্যাপ ব্যবহারের সময়ই শুধু অনুমতি দিন’ অপশনটি বেছে নিন। এতে অ্যাপটি চালু থাকা অবস্থাতেই কেবল সংশ্লিষ্ট পারমিশন সক্রিয় থাকবে, ব্যাকগ্রাউন্ডে নয়।
মাত্র দুই মিনিটেই নিজের ফোন পরীক্ষা করে নিন
প্রাইভেসি রক্ষার জন্য বিশেষ কোনো প্রযুক্তিগত দক্ষতা লাগে না। এখনই ফোনের ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের পারমিশন লিস্ট খুলুন। এরপর প্রতিটি অ্যাপের ক্ষেত্রে নিজেকে একটি সহজ প্রশ্ন করুন-
‘এই অ্যাপটির সত্যিই কি আমার ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন প্রয়োজন?’
উত্তর যদি হয় ‘না’, তাহলে দেরি না করে পারমিশনটি বন্ধ করে দিন। কারণ ডিজিটাল প্রাইভেসি রক্ষার সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর নিয়ম একটাই- কোনো অ্যাপকে তার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অ্যাক্সেস কখনোই দেওয়া যাবে না।

