...|...|...

আইন ও আদালত

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড

কনস্যুলার সহায়তায় ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে রিট

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:৩৩ | আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:১৭
Shares
কনস্যুলার সহায়তায় ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিদেশে বাংলাদেশিদের সময়মতো কনস্যুলার সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কথিত ব্যর্থতার অভিযোগে হাইকোর্টে জনস্বার্থমূলক রিট আবেদন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তাসমিয়াহ নুহিয়া আহমেদ এ রিট দায়ের করেন। রিটে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে কথিত ব্যর্থতাকে কেন বেআইনি ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন জানানো হয়েছে।

রিট আবেদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক, সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, জেদ্দায় বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল এবং সংশ্লিষ্ট শ্রমকল্যাণ উইংয়ের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব বিদেশি মিশনে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানোর আদেশ চাওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে, মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের মামলা জরুরি ভিত্তিতে পর্যালোচনা, আপিল ও ক্ষমার আবেদনের সময়সীমা শনাক্ত করা এবং এসব মামলার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারণ।

এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের সাথে আইনসম্মত কনস্যুলার যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিশ্চিত করার বিষয়টিও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটে বলা হয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।

ওই দুই নাগরিকের মামলাসংক্রান্ত সরকারি নথি, কর্তৃপক্ষের কাছে থাকা তথ্য এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাদের জন্য কী ধরনের সহায়তামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তা যাচাইয়ের আবেদন জানিয়েছেন রিটকারী।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৪ দিনের মধ্যে হলফনামা দাখিলের নির্দেশ দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।

রিটে সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে তাঁদের আইনগত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের পরিবারের পক্ষে আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। পরিবারের আর্থিক অসামর্থ্য, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং বিদেশের বিচারব্যবস্থায় আইনি সহায়তা পাওয়ার জটিলতা তাঁদের সংকট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

এ কারণে মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশিদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ও সময়োপযোগী ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক পদক্ষেপের বিষয়টি স্বীকার করেও রিটকারী জানতে চেয়েছেন, সংশ্লিষ্ট দুই নাগরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়েছিলেন কি না। এ বিষয়ে সরকারি নথির ভিত্তিতে পর্যালোচনার আবেদন জানানো হয়েছে।

রিটে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লিখিত দুই বাংলাদেশির পরিচয়, সংশ্লিষ্ট মামলার বিবরণ এবং তাঁদের জন্য কী ধরনের কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, তা সরকারি নথির মাধ্যমে যাচাই করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়েছে।

তবে রিটে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো আদালতে বিচারাধীন বিষয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য আবেদনে উল্লেখ নেই।