...|...|...

চট্টগ্রাম

কক্সবাজারের বনে মেঘলা চিতা, মিলল জীববৈচিত্র্যের নতুন প্রমাণ

কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৩৯
Shares
কক্সবাজারের বনে মেঘলা চিতা, মিলল জীববৈচিত্র্যের নতুন প্রমাণ

কক্সবাজারের সংরক্ষিত বনে প্রথমবারের মতো দেখা মিলেছে মেঘলা চিতার। ক্যামেরা ট্র্যাপে ধরা পড়েছে বিরল এই বন্য প্রাণীর ছবি। একই গবেষণায় আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর সন্ধান পাওয়া গেছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনে মাঝে মধ্যে মেঘলা চিতার দেখা মিললেও কক্সবাজারের কোনো সংরক্ষিত বনে এর আগে কখনো এই প্রাণীর ছবি ধরা পড়েনি। চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘গ্লোবাল ইকোলজি অ্যান্ড কনজারভেশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

আইইউসিএন মেঘলা চিতাকে বাংলাদেশে মহাবিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বৈশ্বিকভাবে প্রাণীটি রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায়। অর্থাৎ বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম এটি।

একসময় কক্সবাজারের বনাঞ্চল ছিল বন্য প্রাণীর আদর্শ আবাসস্থল। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের এসব বনে ছিল সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য। তবে গত এক দশকে রোহিঙ্গা বসতি, রেললাইন নির্মাণ এবং হাজার হাজার একর বনভূমি জবরদখলের কারণে বদলে গেছে পরিস্থিতি। এমন অবস্থায় ইনানী জাতীয় উদ্যানে মেঘলা চিতার উপস্থিতি বন্য প্রাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু মেঘলা চিতা নয়, গবেষণায় উঠে এসেছে উল্লুক, মুখপোড়া হনুমান, লজ্জাবতী বানর, উল্টোলেজি বানর, বনবিড়াল, চিতাবিড়ালসহ আরও ২১ প্রজাতির বন্য প্রাণীর উপস্থিতি।

২০২২ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১৩ মাস ধরে কক্সবাজারের একটি সংরক্ষিত বনে এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এতে অংশ নেয় বন অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ এবং জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব গেটিনজেন।

বন অধিদপ্তরের বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ সেন্টারের পরিচালক বিপুল কৃষ্ণ দাস বলেন, ইনানী জাতীয় উদ্যানের আয়তন ৭ হাজার ৮৫ হেক্টর। এখানে ১৫টি ক্যামেরা দিয়ে ৩২টি স্থান পর্যবেক্ষণ করা হয়। তিনটি ক্যামেরায় মেঘলা চিতার পাঁচটি ছবি ধরা পড়ে। পায়ের ছাপ ও মল থেকেও এর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যেখানে জলাশয় ও পানির প্রবাহ আছে, সেখানে বন্য প্রাণীর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার তুলনায় বেশি।

তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালে রাঙামাটি থেকে পাচারকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করা একটি মেঘলা চিতা এখন চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে রাখা আছে।

বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেঘলা চিতার উপস্থিতি প্রমাণ করে ইনানী জাতীয় উদ্যানে এখনো কিছু এলাকায় সমৃদ্ধ বাস্তুতন্ত্র টিকে আছে। উদ্যানের প্রায় ৩ হাজার হেক্টর এলাকা মেঘলা চিতার বসবাসের উপযোগী, যা মোট আয়তনের প্রায় ৪৪ শতাংশ। বিশেষ করে ঘন ঝোপঝাড় ও গাছপালাযুক্ত এলাকায় এদের উপস্থিতি বেশি। গবেষণায় এ ধরনের বন পাওয়া গেছে ২ হাজার ৮৮৭ হেক্টর।