...|...|...

অপরাধ

ককটেল ফুটিয়ে ভিডিও দিলেই মিলবে ৫ হাজার টাকা: ডিবি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৩৩ | আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৩
Shares
ককটেল ফুটিয়ে ভিডিও দিলেই মিলবে ৫ হাজার টাকা: ডিবি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সক্রিয় থাকার তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তদন্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন, হাতবোমা বা মলোটভ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটির ভিডিও নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছে পাঠাতে পারলেই ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে।

গোয়েন্দা পুলিশের দাবি, এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা আসছে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে পরিচালিত বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে।

সাম্প্রতিক সময়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেফতার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে অবস্থানরত নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা এসব নাশকতার পরিকল্পনা ও অর্থায়নে যুক্ত রয়েছেন। মাঠপর্যায়ে ককটেল নিক্ষেপের কাজে মাদকাসক্ত ও ভাসমান ব্যক্তিদের পাশাপাশি আর্থিক প্রলোভন এবং দলীয় পদ-পদবির লোভ দেখিয়ে তরুণ ও যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এবং রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় ককটেল তৈরির গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে।

সাম্প্রতিক অভিযানে ডিবি বেশ কয়েকজন নাশকতার সাথে জড়িতকে গ্রেফতার করেছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বংশাল থানা ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দফতর সম্পাদক রায়হান উদ্দিনসহ ছাত্রলীগ কর্মী রাসেল খান, আলা উদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ দুনিয়া কাঁচাবাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়।

এর আগের দিন ১৯ সেপ্টেম্বর কমলাপুর রেলস্টেশনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় শাহজাহানপুর থানা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন রায়হান ও যুবলীগ কর্মী মোহাম্মদ সানমুনকে গ্রেফতার করা হয়। এরও আগে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটকের সামনে বোমাবাজির ঘটনায় মতিঝিল থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালমান ইসলাম সাকিব ওরফে আসিফকে মোটরসাইকেল ও ককটেলসহ গ্রেফতার করা হয়েছিল।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার রায়হান দাবি করেছেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের নির্দেশে তারা যাত্রাবাড়ীতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে তারা পরিচিত এক দোকানদারের মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের দৃশ্য ভিডিও করে নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানোর পর মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে তাদের টাকা দেওয়া হতো।

ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন ও ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, নাশকতায় জড়িত ব্যক্তিরা যোগাযোগের ক্ষেত্রে অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কোনো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট ভারতীয় নম্বর দিয়ে খোলা হলেও ব্যবহারকারী যে নিশ্চিতভাবে ভারতেই অবস্থান করছেন, তা বলা যায় না। রোমিং কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেও ওই অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা সম্ভব।

এদিকে নাশকতার পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে গত সোমবার রাতে রাজধানীর উত্তরা থেকে রবিউল ইসলাম নামে এক ভারতীয় নাগরিককে গ্রেফতার করেছে ডিবির রমনা জোনাল টিম। তার পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে বাস পোড়ানো ও বোমাবাজির সমন্বয়ক হিসেবে অভিযুক্ত ডেমরা থানা মৎস্যজীবী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সবুজকে গ্রেফতার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার থাকায় নাশকতায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে। এই নাশকতার মূল নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে তা সম্পূর্ণ ভেঙে দিতে ডিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে।