‘আওয়ামী লীগের নেতাকে ভালো লাগে না, আওয়ামী লীগ নেতার গাড়ি ভালো লাগে’—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার গাড়িতে চড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) লংমার্চে অংশ নিয়েছেন দলটির নেতা নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
জানা গেছে, ২০১৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়া। তিনি মাদারীপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়েরের কথাও জানা গেছে।
সম্প্রতি এনসিপির লংমার্চে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর সাথে তুষার ভূঁইয়াকে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর কাছে তার ব্যবহৃত গাড়িটির মালিকানা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, ‘এই গাড়ির মালিকের কথা জানলে আপনারা গাড়ি ভেঙে ফেলবেন।’
এরপর গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নিয়ে শুরু হয় যাচাই-বাছাই। বিভিন্ন অনলাইন তথ্য ও পূর্বের রেজিস্ট্রেশন তথ্য পর্যালোচনা করে গাড়িটির নম্বর মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার নামে থাকা গাড়ির নম্বরের সাথে মিলে যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, লংমার্চে ব্যবহৃত গাড়িটি কি তুষার ভূঁইয়ারই?
এ ঘটনায় আরও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—আওয়ামী লীগের সাবেক নেতার গাড়িতে চড়ে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী কেন লংমার্চে অংশ নিলেন? তুষার ভূঁইয়ার সাথে তার রাজনৈতিক কিংবা ব্যক্তিগত সম্পর্ক কী? আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসন নিয়ে যখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে, তখন এমন ঘটনায় সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তুষার ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে বিপুল অর্থ-সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই প্রতিবেদকের হাতে পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের দায়িত্ব যদি নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীদের হাতে থাকে, তাহলে এর ফয়সালা রাজপথে হবে এবং ‘পিঠের চামড়া থাকবে না’।
তবে গাড়িটির মালিকানা, লংমার্চে গাড়িটি ব্যবহারের কারণ এবং তুষার ভূঁইয়ার সাথে সম্পর্কের বিষয়ে নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী ও মনিরুল ইসলাম তুষার ভূঁইয়ার বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যথাযথভাবে সংযুক্ত করা হবে।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। নেটিজেনদের একাংশ বিষয়টির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। একই সাথে নতুন রাজনৈতিক শক্তির নেতাদের সাথে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের যোগাযোগ ও সম্পর্ক নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।


