যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নতুন কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে জানিয়ে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, তেহরান আর কোনো একতরফা শর্ত মেনে নেবে না। তাঁর ভাষায়, “সময় নষ্ট করা এবং একতরফা শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার যুগ শেষ হয়ে গেছে।”
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, রবিবার (৪ অক্টোবর) গালিবাফ বলেন, ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে ইরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না।
তিনি বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান স্পষ্ট। ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।”
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রস্তাবে ঠিক কী ধরনের শর্ত বা বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি তেহরান।
গালিবাফ বলেন, “আমরা উত্তেজিতও নই, ভীতও নই। আমরা যেমন লড়াই করছি, তেমনি আলোচনাও চালিয়ে যাচ্ছি।” ইসলামাবাদে হওয়া আলোচনার সঙ্গেও তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, হামলা কিংবা নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র চলমান সমস্যার সমাধান করতে পারবে না।
ইরানে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক মিশনগুলোর রাষ্ট্রদূতদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আরাকচি বলেন, “অতীতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ও কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই হেরেছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা তাদের কোনো কাজে আসবে না।”
তিনি আরও বলেন, “কেবল ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিলে ইরান তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান আরাকচি। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি যুক্তরাষ্ট্র প্রজ্ঞা ও যুক্তির পথ বেছে নেবে। কিন্তু যদি তারা আবারও সামরিক সমাধানের দিকে এগোয়, তবে আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত থাকব এবং আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নেব।”
হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা এবং বৃহত্তর সমঝোতায় পৌঁছাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত থাকলেও দুই পক্ষের অবস্থানে এখনো উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে।


