...|...|...

বিশ্ব

জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের মধ্যেই কিয়েভে ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৫১
Shares
জার্মান চ্যান্সেলরের সফরের মধ্যেই কিয়েভে ড্রোন হামলা চালাল রাশিয়া

ছবি: সংগৃহীত

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎসের কিয়েভ সফরের মধ্যেই ইউক্রেনের রাজধানীতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং শহরের গুরুত্বপূর্ণ পিভনিচনি বা উত্তর সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানান, রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো পিভনিচনি সেতু লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার দিন ধরে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী।

রাশিয়ার হামলার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন জানাতে আকস্মিক সফরে রোববার কিয়েভে অবস্থান করছিলেন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস। হামলার সময় তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। পরে দুই নেতা যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সফরের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মেৎস লেখেন, “ইউক্রেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ পার করছে। এ কারণেই আমি আজ এই বার্তা নিয়ে কিয়েভে এসেছি যে, আপনারা আমাদের ওপর ভরসা রাখতে পারেন।”

হামলার পর রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য অঞ্চলে হামলা আরও জোরদার করা হবে। এর আগে ইউক্রেনীয় সেনাদের ব্যবহৃত দুটি সেতুতে হামলার কথাও স্বীকার করেছিল মস্কো।

রবিবারের হামলার কয়েকটি ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। ভিডিওতে একটি ড্রোন সেতুর ওপর আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হতে এবং এরপর কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে সেতুর সড়কের মাঝখানে বড় একটি গর্তও দেখা গেছে, যা বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরের একটি যোগাযোগ স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর দাবি, শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া মোট ১৩৫টি ড্রোন পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত ড্রোন। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ১২৫টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

জার্মান চ্যান্সেলরের কিয়েভ সফরের মধ্যেই এই হামলা এমন সময়ে হলো, যখন ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রুশ হামলা আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।