...|...|...

বিশ্ব

এক পাহাড়ের নিচে লুকিয়ে আছে ১০০ কোটি টনেরও বেশি বরফ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ভোর রাত ৫:৫৫
Shares
এক পাহাড়ের নিচে লুকিয়ে আছে ১০০ কোটি টনেরও বেশি বরফ

পাহাড়ের নিচে লুকিয়ে আছে ১০০ কোটি টনেরও বেশি বরফ। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের পাহাড়ি এলাকায় পাথর ও ধ্বংসস্তূপের গভীরে লুকিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ বরফের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। 

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, অঞ্চলটির পাথুরে হিমবাহগুলোতে সব মিলিয়ে প্রায় ১০০ কোটি টন বরফ থাকতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, এসব ‘রক গ্লেসিয়ার’ ভবিষ্যতে সুপেয় পানির গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

সাধারণ হিমবাহের বরফ খোলা জায়গা থেকেই দেখা যায়। কিন্তু রক গ্লেসিয়ার মোটা পাথর ও বোল্ডারের স্তরের নিচে চাপা থাকে। এ কারণে প্রচলিত রাডার দিয়ে এসব হিমবাহের আকার কিংবা ভেতরে থাকা বরফের পরিমাণ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা কঠিন। এই সমস্যা সমাধানে ইউনিভার্সিটি অব উটাহর গবেষকেরা মাউন্ট টিম্পানোগোসের পাদদেশের একটি হিমবাহে বিশেষ ‘গ্রাভিমিটার’ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।

প্রযুক্তিটির মাধ্যমে মাধ্যাকর্ষণের অতি সূক্ষ্ম পরিবর্তন পরিমাপ করে ভূগর্ভস্থ অংশের ত্রিমাত্রিক চিত্র তৈরি করা হয়। মোট ২৩২টি স্থানে পরিমাপ চালিয়ে গবেষকেরা দেখতে পান, ওই হিমবাহের প্রায় ৮৩ শতাংশই বরফ এবং অবশিষ্ট ১৭ শতাংশ পাথর। বরফের গড় গভীরতা পাওয়া গেছে প্রায় ১৮ দশমিক ৮ মিটার বা ৬২ ফুট।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শুধু ওই একটি পাথুরে হিমবাহেই প্রায় ১৫ লাখ ঘনমিটার বরফ রয়েছে। পরিমাণটি প্রায় ৬০০টি অলিম্পিক সুইমিং পুলে থাকা পানির সমান।

একটি হিমবাহের এই তথ্যের ভিত্তিতে উটাহর ৮৩৬টি রক গ্লেসিয়ারে মোট বরফের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টন হতে পারে বলে অনুমান করেছেন গবেষকেরা। একই হিসাব পশ্চিমাঞ্চলীয় যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টন এবং পুরো বিশ্বে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ কোটি টনে পৌঁছাতে পারে।

গবেষণাটি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জার্নাল অব জিওফিজিক্যাল রিসার্চ: আর্থ সারফেস’-এ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই বরফভাণ্ডার নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি সতর্কও করেছেন বিজ্ঞানীরা। 

তাদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে রক গ্লেসিয়ারগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। এর প্রভাবে ভবিষ্যতে পাহাড়ের নিচের বা নিম্নাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে বড় ধরনের প্রাকৃতিক ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।