...|...|...

বিশ্ব

এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বাড়ল ৬১ বিলিয়ন ডলার, ফের ট্রিলিয়নের দোরগোড়ায়

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:৪০
Shares
এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বাড়ল ৬১ বিলিয়ন ডলার, ফের ট্রিলিয়নের দোরগোড়ায়

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্কের সম্পদের পরিমাণ আবারও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। শুক্রবার মাত্র এক দিনেই তার সম্পদ বেড়েছে ৬১ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৯৭ হাজার ৯৭০ কোটি ডলার। শুক্রবার (২ অক্টোবর) ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় এ হিসাব উঠে এসেছে।

মাস্কের সম্পদে হঠাৎ এই বড় উত্থানের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে তার মহাকাশ ও স্যাটেলাইট প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা টেসলার শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধি।

শুক্রবার স্পেসএক্সের শেয়ারের দর ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে পৌঁছে। আগের ২৪ ঘণ্টায় প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি মহাকাশযানের সফল উৎক্ষেপণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করে। একই দিনে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে।

টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ার ক্ষেত্রে কোম্পানিটির তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহের তথ্যও বড় ভূমিকা রেখেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে, যা বাজার বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশা তৈরি হয়েছে যে, টানা তৃতীয় বছরের মতো গাড়ি সরবরাহ কমে যাওয়ার শঙ্কা এড়াতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

এক দিনে মাস্কের যে পরিমাণ সম্পদ বেড়েছে, তা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনেই মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ বাংলাদেশের পুরো বছরের বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশের সমান।

ফোর্বসের রিয়েলটাইম বিলিয়নিয়ার্স তালিকায় এখনো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন ইলন মাস্ক। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৩৭ হাজার ৭০ কোটি ডলার।

তবে ট্রিলিয়ন ডলারের সীমার কাছাকাছি পৌঁছানো মাস্কের জন্য নতুন ঘটনা নয়। এর আগেও তিনি একাধিকবার এই সীমা অতিক্রম করেছেন। গত ১২ জুন অল্প সময়ের জন্য বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিত হন তিনি। ওই দিন তার সম্পদ সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ৪৫ হাজার কোটি ডলারে উঠেছিল।

সে সময় মাস্কের সম্পদ দ্রুত বাড়ার প্রধান কারণ ছিল স্পেসএক্সের শেয়ারের উল্লম্ফন। গত জুনে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু করলে স্পেসএক্সের বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়। এর প্রভাব পড়ে মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাবেও, ফলে তিনি ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা পার হন।

তবে জুনের শেষ দিকে পরিস্থিতি বদলে যায়। স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম ৩১ শতাংশ কমে গেলে মাস্ক আবার ট্রিলিয়নিয়ারের অবস্থান হারান। একই সময়ে টেসলার সঙ্গে করা একটি চুক্তির কারণে তার ১১৬ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলারের শেয়ার ফোর্বসের সম্পদ হিসাব থেকে বাদ পড়ে।

এরপর ২৯ জুন আবারও সাময়িকভাবে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেন মাস্ক। কিন্তু ১ জুলাই স্পেসএক্সের শেয়ারের দর কমে গেলে ফের সেই সীমার নিচে নেমে আসেন তিনি। জুলাইয়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্য সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ায় মাস্কের মোট সম্পদও ৭০০ বিলিয়ন বা ৭০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে যায়।

এখন আবার স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দর বাড়তে শুরু করায় দ্রুত বেড়ে চলেছে মাস্কের সম্পদ। এর ফলে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি আবারও ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদের সীমার একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।