কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়্যাত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সন্তানকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কোটবাড়ির গন্ধমতিতে নিজ বাসভবনে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাৎকালে এ অভিযোগ করেন ড. নাহিদা বেগম।
তিনি বলেন, আমার দুধের ছেলেকে নিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে নানা উপায়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমার কোনো দোষ থাকলে আমাকে শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু আমার ছেলে কেন এর শাস্তি পাবে?
ড. নাহিদা বেগম বলেন, ২০২৫ সালের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টরের দায়িত্ব পালনকালে মাদকসেবী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে সহযোগিতা করেছিলাম। ওই ঘটনার কারণে আমার ছেলেকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকলে তা মেনে নেব না।
অপ্রতীমকে অপরাধের সাথে জড়ানোর অপচেষ্টা চলছে দাবি করে তিনি বলেন, আমার ছেলেকে এমনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে যেন সে অপরাধীদের সাথে জড়িত ছিল। অথচ অপ্রতীম ছিল ছোট শিশু এবং এসব বিষয় বোঝার বয়সও তার হয়নি।
তিনি আরও বলেন, আমার ছেলেকে তাদের সাথে জড়িয়ে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সেও তাদেরই একজন। অথচ আমার ছেলে নিষ্পাপ, ছোট বাচ্চা। সে এসবের কিছুই বোঝে না।
সন্তান হত্যার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে অন্য শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান নাহিদা বেগম।
তার ভাষ্য, আমি শুধু আমার ছেলের জন্য বিচার চাই না। যারা আমার ছেলেকে হত্যা করেছে, তারা জেল থেকে বের হলে আরও কত বাচ্চার জীবন নেবে, কত বাচ্চার জীবন ধ্বংস করবে, সেটা নিয়েও আমি চিন্তিত। আমি চাই, এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার হোক।
এদিকে, অপ্রতীম হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য মামলা পরিচালনা করবেন না বলে জানিয়েছেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, অপ্রতীম হত্যা মামলার আসামিদের পক্ষে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য আইনজীবী হিসেবে দাঁড়াবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট কাইমুল হক রিংকু, সরকারি আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকেট তারেক আবদুল্লাহ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক খন্দকার, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট শরীফুল ইসলাম, কুবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরিফুল করীম, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বেলাল উদ্দীন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

