...|...|...

জাতীয়

আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর আজ, চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৩২ | আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৪৩
Shares
আবরার ফাহাদ হত্যার ৭ বছর আজ, চূড়ান্ত বিচারের অপেক্ষায় পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

বুয়েটের শিক্ষার্থী শহীদ আবরার ফাহাদ হত্যার সাত বছর পূর্ণ হলো আজ। হত্যা মামলায় রায় হলেও এখনও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। হাইকোর্টের রায় বহাল থাকার পর মামলাটি এখন আপিল বিভাগে রয়েছে। সেখানে কবে নাগাদ চূড়ান্ত শুনানি হবে, সেটিও এখনও নির্ধারিত হয়নি। দ্রুত মামলার শুনানি শেষ করে সাজা কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন আবরারের পরিবার।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিবাগত রাতে রাজধানীর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরেবাংলা হলে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

আবরার হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন ঢাকার আদালত। পরে ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যায় মামলাটি। ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এরপর দণ্ডপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। এখন চূড়ান্ত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।

এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে চূড়ান্ত শুনানিতে আসামিদের সাজা বহাল রাখার পক্ষে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুক্তি তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যদি মনে করেন আপিলের মাধ্যমে তারা খালাস পাবেন, তাহলে দ্রুত আপিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব তাদেরই। রাষ্ট্র এ আপিলে বিবাদী হিসেবে রয়েছে। হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের যে দায়িত্ব ছিল, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় তা পালন করেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, হাইকোর্ট যেহেতু নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছেন, তাই আপিল বিভাগে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাদের আইনজীবীদেরও ভূমিকা রয়েছে। তবে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও মামলাটি নিষ্পত্তিতে অযথা বিলম্ব না হওয়ার বিষয়ে চেষ্টা থাকবে।

আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ দ্রুত মামলার শুনানি শেষ করে রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, কিছুদিন আগে আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে তিনি সাক্ষাৎ করেছেন। তারা মামলাটি দ্রুত শেষ করার বিষয়ে তাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন ভবিষ্যতে কোনো সন্ত্রাসী সংগঠনের কর্মকাণ্ডের কারণে আর কাউকে আবরারের মতো প্রাণ হারাতে না হয়, সে বিষয়েও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আবরার হত্যা মামলার রায়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, ভিন্নমতের কারণে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আদালত মনে করেন, বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত অভিযুক্তরা এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় এড়াতে পারেন না।