...|...|...

রাজধানী

শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের লাগাতার কর্মসূচি

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:২২ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:২৪
Shares
শাহবাগে প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের লাগাতার কর্মসূচি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা আগস্ট মাসের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন।

রবিবার (২ আগস্ট) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষকরা প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে জড়ো হন এবং দ্রুত যোগদান নিশ্চিত করার দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। মন্ত্রণালয় থেকে যোগদানের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সকালে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রাজধানীসহ দূর-দূরান্তের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত শিক্ষক এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। আন্দোলনকারীদের মতে, চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তারা এখনও কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি, যার ফলে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হলেও নানামুখী জটিলতায় তারা এখনও স্কুলে যোগ দিতে পারেননি। তাই আগস্ট মাসের মধ্যেই তাদের যোগদান ও পদায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দিতে হবে।

এর আগে শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এক জরুরি ভার্চুয়াল সভা শেষে সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছিলেন, তদন্ত ও প্রক্রিয়াগত বিলম্বের কারণে আগামী ২৯ অক্টোবর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষকরা যোগদান করবেন। এরপর আজ সকালে বিদ্যালয়-২ শাখার উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে যোগদানের তারিখ এগিয়ে ১ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয় এবং যথাসময়ে নিয়োগপত্র পাঠানোর কথা জানানো হয়।

তবে মন্ত্রণালয়ের এই ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত শিক্ষকরা। তাদের মতে, অক্টোবর পর্যন্ত আরও দুই মাস অপেক্ষা করা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। দীর্ঘদিন ধরে বেকার থাকায় তারা তীব্র আর্থিক ও মানসিক চাপের মুখে রয়েছেন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের প্ল্যাটফর্মের নেতা দেবব্রত সরকার বলেন, আগস্টের মধ্যেই যোগদান ও পদায়নের সিদ্ধান্ত না আসলে এই লাগাতার আন্দোলন চলবে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে যৌক্তিক ও ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত এলে তারা কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করবেন।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের ৬১ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সব ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কর্মস্থলে যোগ দিতে না পারায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে দিন পার করছেন এসব হবু শিক্ষকরা।