...|...|...

খেলা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জয়, যা বলছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম-সেলিব্রিটিরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:০৩ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:৫৯
Shares
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের জয়, যা বলছেন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম-সেলিব্রিটিরা

ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম বড় ও অবিশ্বাস্য অঘটন ঘটিয়ে ৯ উইকেটের ঐতিহাসিক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ডারউইনে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত পাত্তাই দেয়নি নাজমুল হোসেন শান্তর দল। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটার এবং ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মুখে মুখে এখন বাংলাদেশের এই রূপকথার জয়গান।

অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে ‘চরম হযবরল’ পরাজয়

অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দ্য অস্ট্রেলিয়ান তাদের প্রতিবেদনে এ হারকে বর্ণনা করেছে ‘গবস্ম্যাকিং শ্যাম্বলস’ বা চরম হযবরল ও অবিশ্বাস্য এক বেহাল দশা হিসেবে। কথ্য ও অনানুষ্ঠানিক ব্রিটিশ স্ল্যাং ‘গবস্ম্যাকিং’ অর্থ চোখ কপালে ওঠার মতো বা হতবাক করা এবং ‘শ্যাম্বলস’ অর্থ চরম বিশৃঙ্খল অবস্থা। 

রবার্ট ক্র্যাডকের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন এটি এবং অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম লজ্জাজনক পরাজয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অস্ট্রেলিয়া তাদের ১২ মাসে ২০ টেস্ট খেলার দীর্ঘ যাত্রার শুরুটাই করেছে বিপর্যয় দিয়ে। ক্যামেরন গ্রিনের বহু প্রতীক্ষিত প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত শুধু ব্যবধানই কমাতে পেরেছে, পরাজয় রোধ করতে পারেনি। মারারা স্টেডিয়ামের চমৎকার উইকেটে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালিস্ট ও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ। অথচ এর আগে বিদেশের মাটিতে ২৬ টেস্টের ২২টিতে হারা এবং সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে ও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে প্রস্তুতি ম্যাচে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়া বাংলাদেশ দল ডারউইনে নিজেদের ৪০ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত উপহার দিল।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান তাদের শিরোনামে লিখেছে—“Australia humiliated as Bangladesh make history with crushing Test victory” (অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জা দিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও বিশাল টেস্ট জয়)। তারা উল্লেখ করেছে, ম্যাচের কোনো পর্যায়েই অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি বাংলাদেশ। অন্যদিকে মেলবোর্নভিত্তিক

হেরাল্ড সান তাদের শিরোনামে সরাসরি লিখেছে—“Disaster in Darwin” (ডারউইনে বিপর্যয়)।

বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও তারকাদের প্রতিক্রিয়া

শশী থারুর: ভারতের বিশিষ্ট রাজনীতিক ও ক্রিকেটপ্রেমী সামাজিক মাধ্যমে বাংলাদেশের এই জয়কে দলটির টেস্ট ইতিহাসের “সবচেয়ে বড় জয়” হিসেবে অভিহিত করে জানান যে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ছিল দৃঢ় ও হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

ওয়াসিম আকরাম: পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের এই অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষভাবে পেসার হাসান মাহমুদের প্রশংসা করে বলেন, হাসান কোনো অস্বাভাবিক কিছু করার চেষ্টা না করে সঠিক লেংথে ধারাবাহিকভাবে বল করে অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের চাপে রেখেছিলেন।

ড্যামিয়েন ফ্লেমিং: অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডারউইনের এই জয়কে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন এক অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই ম্যাচে ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও দক্ষতার ত্রয়ী রূপ দেখা গেছে।

আইসল্যান্ড ক্রিকেট: রসিকতার সুরে তারা ইংল্যান্ডকে খোঁচা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে লেখে, গত ১৫ বছরে ইংল্যান্ড অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে যতগুলো টেস্ট জিতেছে, বাংলাদেশ এখন এক ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ায় ঠিক ততগুলো টেস্ট জয়ের মালিক!

ম্যাচের চুম্বক অংশ ও রেকর্ড ভাঙার গল্প

চতুর্থ দিনে ডারউইনে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ২৮৪ রানে অলআউট করে দেয় বাংলাদেশ। জয়ের জন্য লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১ উইকেটে ৫৭ রান, যা খুব সহজেই টপকে যায় সফরকারীরা।

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা বাংলাদেশ প্রমাণ করল যে তারা কেবল নিজেদের চেনা কন্ডিশনেই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম কঠিন কন্ডিশনেও ক্রিকেটীয় মানসিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সক্ষম।

তানজিদ হাসানের শতক, হাসান মাহমুদের দুর্দান্ত বোলিং এবং মেহেদী হাসান মিরাজের কার্যকরী স্পেলের সুবাদে বাংলাদেশ দল ম্যাচজুড়ে নিজেদের সুযোগ তৈরি করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্সও ম্যাচ শেষে বাধ্য হয়ে স্বীকার করেছেন যে, “তাদের এই জয়টা পুরোপুরি প্রাপ্য ছিল।”

এর আগে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জয় নিশ্চিত হওয়ার পর খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে পুরো দলকে অভিনন্দন জানান।

এই জয়ের মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ের অধরা স্বপ্ন এখন বাস্তব, যা বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থানকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে।