টাঙ্গাইলের সখীপুরে অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচিত সৌদি প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) আর নেই। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজি ইসমত আরার বাড়িতে তার মৃত্যু হয়।
পারিবারিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন জামাল উদ্দিন। তার দুটি কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ায় শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। গত ৪ আগস্ট স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় শুক্রবার তাকে আবার ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
ভাতিজির স্বামী শাহ আলম জানান, তাদের বাড়িতে জায়গার সংকট থাকায় জামাল উদ্দিনকে বারান্দায় রেখে চিকিৎসা ও সেবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। গ্রামবাসীর সহায়তায় তাকে সুস্থ করার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এর আগে গত ১ আগস্ট গভীর রাতে কালমেঘা এলাকায় পৈতৃক বাড়ির কাছের একটি সড়কে জামাল উদ্দিনকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে তার স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে। পরদিন সকালে স্থানীয়রা তাকে পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। পরে বৃষ্টির মধ্যে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা তৈরি হয়।
পরিবারের ভাষ্য, প্রায় ২২ বছর আগে জামাল উদ্দিন নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুরে স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস শুরু করেন। এরপর প্রায় ১২ বছর সৌদি আরবে কাজ করেন।
জামাল উদ্দিনের ভাই আবদুল জলিলের অভিযোগ, প্রবাসে উপার্জিত অর্থ তিনি স্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর স্ত্রী ও সন্তানরা তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চাননি।
তবে স্ত্রী রিনা আক্তার দাবি করেছিলেন, আড়াই মাস আগেই তিনি জামাল উদ্দিনকে তালাক দিয়েছেন। তার ভাষ্য, আইনগত সম্পর্ক না থাকায় তাকে নিজ গ্রামে রেখে আসা হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, জীবনের শেষ সময়ে জামাল উদ্দিনের চিকিৎসা ও মৃত্যুর পর দাফনের ব্যবস্থায়ও এগিয়ে আসেন গ্রামবাসী। বহুরিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, গ্রামবাসীর চাঁদার টাকায় তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং এখন দাফনের খরচও একইভাবে সংগ্রহ করা হচ্ছে।


