...|...|...

বিশ্ব

ভারতীয় প্রযুক্তি খাতে বড় ধাক্কা

৮ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৩:১৬
Shares
৮ শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়া স্থগিত করল যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় প্রযুক্তি পেশাজীবীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির শ্রমবাজার সুরক্ষার অজুহাতে হঠাৎ করেই টাটা, ইনফোসিস ও উইপ্রোর মতো ৮টি শীর্ষস্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠানের জন্য 'পারমানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন' (পার্ম) প্রোগ্রাম স্থগিত করেছে ওয়াশিংটন। এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কগনিজেন্ট, এইচসিএল, অ্যাডোবি ও ক্যাপজেমিনির মতো আন্তর্জাতিক জায়ান্ট কোম্পানিগুলোও রয়েছে।

মার্কিন শ্রম বিভাগের এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট আটটি প্রতিষ্ঠান এখন নতুন কোনো পার্ম আবেদন জমা দিতে পারবে না। পাশাপাশি আগে থেকে জমে থাকা আবেদনগুলোর প্রক্রিয়াকরণও সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। মূলত বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের সনদ বা গ্রিন কার্ড অর্জনের প্রথম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো এই পার্ম সার্টিফিকেশন।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, পার্ম কর্মসূচির অপব্যবহারের মাধ্যমে আমেরিকান কর্মীদের চাকরির বাজার থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অভিযোগ করেছেন যে, বিভিন্ন কোম্পানি এই কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে আমেরিকান কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিচ্ছে এবং তাদের মজুরি কমিয়ে দিচ্ছে। ভ্যান্সের ভাষ্যমতে, মাইক্রোসফটের মতো বড় কোম্পানিগুলোর উচিত আমেরিকান কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া।

পার্ম কর্মসূচি মূলত ২০০৫ সালে চালু করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের স্থায়ী বসবাসের বা গ্রিন কার্ডের পথ সহজ করা। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিন শ্রম বিভাগকে নিশ্চিত করতে হয় যে, সংশ্লিষ্ট পদের জন্য যোগ্য ও পর্যাপ্ত আমেরিকান কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান বা মজুরিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এটি মূলত নিয়োগকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত একটি প্রক্রিয়া, যেখানে ব্যক্তিগত আবেদনের সুযোগ নেই।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজার হাজার বিদেশি প্রযুক্তিবিদ, বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫২ লাখ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন। যদিও পার্ম কর্মসূচিতে এই স্থগিতাদেশ সরাসরি এইচ-১বি ভিসাধারীদের মর্যাদা বাতিল করবে না, তবে স্থায়ী বসবাসের পথে এটি একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইচ-১বি ভিসা সাধারণত ছয় বছরের জন্য দেওয়া হয়, আর পার্ম কর্মসূচি এই অস্থায়ী অবস্থাকে স্থায়ী বসবাসের দিকে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে।

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে কোম্পানিগুলোর জন্য বিদেশি মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। অনেক দক্ষ কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে আসার ক্ষেত্রে স্থায়ী বসবাসের পথকে একটি বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখেন। এখন এই পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদেশি কর্মীদের ইবি-১এ বা ইবি-২ ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েভারের মতো স্ব-আবেদনের প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়াগুলো অত্যন্ত দীর্ঘমেয়াদী এবং এতে প্রচুর ব্যাকলগ থাকায় তা সাধারণ কর্মীদের জন্য খুব একটা সহায়ক নয়।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এইচ-১বি ভিসার নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে এককালীন ১ লাখ ডলার ফি আরোপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে ফেডারেল আদালতের আদেশে আটকে যায়। বর্তমান এই নতুন নিষেধাজ্ঞা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন ও ভিসা সংক্রান্ত কড়াকড়ির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসন মনে করছে, বর্তমান ভিসা নীতিগুলো আমেরিকানদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে এবং বিদেশি কর্মীদের মাধ্যমে মজুরি কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া আটটি আইটি প্রতিষ্ঠানই বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে আউটসোর্সিং এবং সফটওয়্যার সেবায় এই কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীলতা অনেক। এখন মার্কিন সরকারের এই কঠোর অবস্থানে কোম্পানিগুলো কীভাবে তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনর্গঠন করবে, তা নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বে উদ্বেগ বাড়ছে। একইসঙ্গে, যারা ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, তাদের ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত।