রাতে টানা আট ঘণ্টা ঘুমানোর পর সকালে সতেজ ও চাঙ্গা বোধ করার কথা। তবে অনেকেই পুরো রাত ঘুমানোর পরও ঘুম থেকে উঠে ক্লান্তি, ঝিমুনি কিংবা অলসতা অনুভব করেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, এই সমস্যার মূল কারণ কেবল ঘুমের সময়ের ব্যাপ্তি নয়, বরং ঘুমের মান বা কোয়ালিটি।
পর্যাপ্ত সময় বিছানায় কাটানোর পরও শরীরে প্রয়োজনীয় গভীর বা ‘রিস্টোরেটিভ’ ঘুমের অভাব থাকলে এমনটা হতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণা সংস্থা ‘অ্যাক্টাস এসপ সাইকিয়াট্রি’র এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের ব্যাঘাত দিনের বেলায় মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি ও কাজের দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও ক্লান্ত লাগার মূল কারণগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. স্লিপ অ্যাপনিয়া: ঘুমের মধ্যে ঘন ঘন শ্বাস-প্রশ্বাস বাধাগ্রস্ত হওয়াকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়। এতে ঘুমের গভীরতা নষ্ট হয়, অথচ ব্যক্তি তা টেরও পান না। সকালে উঠে মাথাব্যথা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মনোযোগের অভাব এবং দিনে ঘুমানোর ভাব এই ব্যাধির অন্যতম লক্ষণ।
২. অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচী: প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠা শরীরের ভেতরের প্রাকৃতিক ঘড়ি বা বায়োলজিক্যাল ক্লককে এলোমেলো করে দেয়। সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে রাত ১১টায় আর ছুটির দিনে রাত ২টায় ঘুমাতে গেলে শরীর 'সোশ্যাল জেট ল্যাগ'-এ পড়ে। ফলে ছুটির দিনে আট ঘণ্টা ঘুমালেও ক্লান্তি দূর হয় না।
৩. চা-কফি ও অ্যালকোহল গ্রহণ: সন্ধ্যা বা রাতে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় খেলে রাতে দ্রুত ঘুম এলেও সেই ঘুম গভীর হয় না। অন্যদিকে অ্যালকোহল প্রারম্ভিক ঘুম ত্বরান্বিত করলেও রাতের শেষভাগে ঘুমের মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায়। একই সঙ্গে ঘুমানোর ঠিক আগে ভারী খাবার খাওয়াও পরিপাক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়ে ঘুমের মান নষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
শরীরের ভেতরের ঘড়ি ঠিক রাখতে সপ্তাহের সব দিন একই সময়ে ঘুমানো ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা জরুরি। এ ছাড়া সকালে ঘুম থেকে উঠে সূর্যালোকে কিছু সময় কাটানো ও রাতে হালকা খাবার খাওয়া ঘুমের মান বাড়াতে সাহায্য করে।

