...|...|...

বিশ্ব

৭ শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না ইরান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৮ | আপডেট: ৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৩৬
Shares
৭ শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ খুলবে না ইরান

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গত জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় উল্লেখ করা ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

রবিবার (৪ অক্টোবর) গালিবাফ বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে তেহরানের নির্ধারিত সাতটি শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ফিরিয়ে আনার প্রশ্নই আসে না।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল, যেখানে বলা হয়, নির্ধারিত শর্তগুলো পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং স্বাভাবিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। গত সপ্তাহে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

গালিবাফ বলেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান সম্পূর্ণ স্পষ্ট ও দৃঢ়। ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে আমাদের সাতটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একতরফা দাবি চাপিয়ে দেওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জবাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান তাদের সামগ্রিক অবস্থান জানিয়েছে। তবে ওয়াশিংটনকে জানানোর মতো আরও কিছু বিষয় এখনো বাকি রয়েছে।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবগুলো মূলত তাদের আগের অবস্থানের সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে। তবে এই মুহূর্তে ইরানের প্রধান মনোযোগ হরমুজ প্রণালী এবং সেখানে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের দিকে।

তিনি আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে ইরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনায় জাতিসংঘের পরমাণু তদারকি সংস্থার পরিদর্শনের প্রস্তাব দিয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই পর্যায়ে পারমাণবিক ইস্যুতে কোনো আলোচনা চলছে না।

আলোচনা সম্পর্কে অবগত এক কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানান, বর্তমানে আলোচিত নথিতে সাত দিনের একটি আস্থা-বৃদ্ধির প্রক্রিয়ার রূপরেখা রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো উভয় পক্ষকে জুনে সম্মত হওয়া সমঝোতা স্মারকের আরও উন্নত একটি সংস্করণে ফিরিয়ে আনা।

ওই কর্মকর্তার মতে, বর্তমান মতপার্থক্য পরিকল্পনার মূল বিষয়বস্তু নিয়ে নয়; বরং কোন পদক্ষেপ আগে নেওয়া হবে এবং সেগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে—সেটিই প্রধান বিরোধের জায়গা।