উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, দেশটির নেতা কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে একটি হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা ও কার্যকারিতা যাচাই করা।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর বরাতে সংবাদমাধ্যম রয়টার্স রবিবার (৪ অক্টোবর) জানায়, মাঝারি-পাল্লার এই কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রটি শনিবার উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরে পূর্ব উপকূলীয় জলসীমায় থাকা নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে। তবে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে।
কেসিএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, এই মহড়ার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়ার প্রতিরোধক বাহিনীর প্রস্তুতি, গতিশীলতা ও কার্যক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
কিম জং উন বলেন, প্রতিপক্ষের কাছে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত অস্ত্রের “নির্ভরযোগ্যতা ও বিধ্বংসী ক্ষমতা” তুলে ধরা অব্যাহত রাখতে হবে। একই সঙ্গে তিনি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার নীতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানান।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন এবং ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষ “ঢেউয়ের মতো গতিপথ” দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ট্র্যাকিং ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করেছে।
তবে সিউলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি আগে থেকেই পর্যবেক্ষণ করছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি উড্ডয়নের পরপরই শনাক্ত ও অনুসরণ করতে সক্ষম হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তাদের এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শনাক্ত ও প্রতিহত করার সক্ষমতার আওতার মধ্যেই রয়েছে।
এই উৎক্ষেপণ এমন সময়ে হলো, যখন কোরীয় উপদ্বীপের সামরিক-মুক্ত অঞ্চল বা ডিএমজেডে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার কয়েকজন সেনা আহত হওয়ার পর দুই কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সিউল ওই বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করলেও পিয়ংইয়ং অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কেসিএনএ এবারের পরীক্ষার বিষয়ে তুলনামূলক বেশি তথ্য প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্রটির আঘাতের সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্কও ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন মনে করেন, এর মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেদের দাবিকৃত প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার পাল্লার তথ্যকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের নজরদারি সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির গঠন ২০২২ সালে প্রথম পরীক্ষিত শঙ্কু-আকৃতির হাইপারসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে মিল রয়েছে। এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে উত্তর কোরিয়া অস্ত্রটিকে পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে ধীরে ধীরে সামরিক ব্যবহারের উপযোগী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।


