চিলির জাতীয় নারী ক্রিকেট দল ‘লাস লোইকাস’-এর হয়ে কোস্টারিকার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে অভিষেক হয়েছে ৭০ বছর বয়সী ভিলদোসোলার। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ম্যাচে দলের অধিনায়কত্ব করছিলেন তারই নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসে। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করলেন এই প্রবীণ ব্যাটসম্যান।
এই অভিষেকের মাধ্যমে ভিলদোসোলা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া সবচেয়ে বয়স্ক খেলোয়াড়ের তকমা পেয়েছেন। তবে সামগ্রিক পেশাদার ক্রিকেটের ইতিহাসে দেখলে, ১৯৫০-৫১ মৌসুমে ৭২ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষিক্ত হওয়া ভারতের রাজা মহারাজ সিংয়ের পরই এখন তার অবস্থান।
ভিলদোসোলার ক্রিকেট-যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে, একেবারে কাকতালীয়ভাবে। চিলির নিউবলে অঞ্চলের দল ‘লাস লোইকাস’ (স্থানীয় এক পাখির নামানুসারে দলের নামকরণ) সে সময় একটি মা-মেয়ে ক্রিকেট আয়োজন করেছিল, যার উদ্যোক্তা ছিলেন তৎকালীন অধিনায়ক জ্যানেট গার্সেস। সেই আয়োজনে ১৬ বছর বয়সী নাতনি ক্যামিলার অনুরোধেই মাঠমুখী হয়েছিলেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী ভিলদোসোলা।
সেই দিনের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে তিনি জানান, শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন নাতনির খেলা দেখতে আসা দর্শকদের জন্য রান্নাবান্নার কাজেই তাকে ডাকা হয়েছে। কিন্তু মাঠে নেমে বল-ব্যাটের স্পর্শ পাওয়ার পর তার ভাবনা পুরোপুরি বদলে যায়। জীবনে প্রথমবার ব্যাট ধরার অভিজ্ঞতা এতটাই ভালো লেগেছিল যে এরপর থেকে আর তিনি ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাননি।
মা লরেতো এবং নাতনি ক্যামিলার নিয়মিত উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ধীরে ধীরে খেলাটির প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয় তার। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এপ্রিলে কোস্টারিকার বিপক্ষে ম্যাচে তিনি ওপেনার হিসেবে মাঠে নামেন, যেখানে সঙ্গী ছিলেন তার নাতনিও। যদিও সেই ম্যাচে ভিলদোসোলা শূন্য রানে আউট হয়ে যান, তবু তার এই অংশগ্রহণ স্কোরবোর্ডের সংখ্যার চেয়ে অনেক বড় একটি বার্তা বহন করে।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ভিলদোসোলা বলেন, তার যৌবনকালে- অর্থাৎ প্রায় পাঁচ দশক আগে- বাস্কেটবল, ভলিবল বা ফুটবলের মতো খেলাগুলোই বেশি জনপ্রিয় ছিল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার বিষয়টি তো দূরের কথা, কোনো খেলাতেই পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ার চিন্তা তার কখনো ছিল না। তবে ল্যাটিন আমেরিকার মানুষ হিসেবে শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকার প্রবণতা তাদের মধ্যে সবসময়ই ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। সেই তাগিদ থেকেই তিনি মাঠে নেমেছেন, যেখানে জয়ের চেয়ে অংশগ্রহণকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে দলের অধিনায়ক ও নাতনি ক্যামিলা ওয়ারসে জানান, তার নানি সবসময়ই প্রাণবন্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন, তবে তিনি কখনো কল্পনাও করেননি যে তার নানি একদিন তার নিজের দলের সতীর্থ হয়ে উঠবেন। মাঠে নানির উপস্থিতি পুরো দলের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণার উৎস বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, মাঝেমধ্যে নিজের নানিকে মাঠে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়টি একটু অস্বাভাবিক মনে হলেও, একসঙ্গে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তার কাছে দারুণ আনন্দদায়ক।
দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় ভিলদোসোলার বয়স প্রায় ৫০ বছর বেশি হওয়ার বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করে তিনি বলেন, শারীরিক জয়েন্টের সীমাবদ্ধতার কারণে তিনি বোলিং করতে পারেন না, তাই ব্যাটিংকেই তিনি বেছে নিয়েছেন। দলের তরুণ সদস্যদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ কাজ না হলেও, নিজের নাতনির নেতৃত্বে খেলাকে তিনি নিজের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের বিষয় বলে মনে করেন।


