...|...|...

খুলনা

৬ বছরেও শেষ হয়নি গল্লামারীর জোড়া সেতু

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬, দুপুর ২:২০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০১
Shares
৬ বছরেও শেষ হয়নি গল্লামারীর জোড়া সেতু

খুলনা মহানগরীর প্রবেশদ্বার গল্লামারী। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন হাজারো মানুষ। কিন্তু কয়েক বছর ধরে জোড়া সেতুর নির্মাণকাজের কারণে এখানকার যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। মাত্র চার বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ছয় বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও শেষ হয়নি ময়ূর নদের ওপর নির্মাণাধীন দুটি আধুনিক স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজের কাজ। বর্তমানে প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ। ফলে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নগরবাসী।

সড়ক জনপদ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ২০২০ সালের জুলাই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় খুলনা জোনের আওতাধীন মহাসড়কে বিদ্যমান সরু ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পরিবর্তে নতুন কংক্রিট স্টিল সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির আওতায় গল্লামারীতে ময়ূর নদের ওপর দুটি আধুনিক স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। কাজ শেষ করার সময়সীমা ছিল ২০২৪ সালের ৩০ জুন।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ একাধিকবার বাড়ানো হয়। দ্বিতীয় দফায় ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ, তৃতীয় দফায় ২০২৬ সালের ২৮ জুন এবং সর্বশেষ চতুর্থ দফায় বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ছয় বছর পার হলেও কাজের অগ্রগতি মাত্র ৪৫ শতাংশ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স। দুটি সেতুর পাশাপাশি নির্মাণ করা হচ্ছে ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক। প্রতিটি সেতুর দৈর্ঘ্য ৬৮ দশমিক ৭০ মিটার, মোট প্রস্থ ২৩ মিটার এবং নদীর পানির স্তর থেকে উচ্চতা মিটার। প্রতিটি সাব-স্ট্রাকচারে থাকছে ৮০টি পাইল।

একটি পুরোনো সেতু ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে একটি সেতুর ওপর দিয়ে। ফলে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত লেগেই থাকছে দীর্ঘ যানজট। অফিসগামী, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সব ধরনের যানবাহনকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় পথচারী পরিবহনচালকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থা চললেও কাজের গতি বাড়েনি। এতে প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময় কর্মঘণ্টা।

খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব আইনজীবী বাবুল হাওলাদার বলেন, দুটি সেতুর একটি ভেঙে কাজ শুরু করায় অন্যটির ওপর পুরো চাপ পড়েছে। বছরের পর বছর মানুষ ভোগান্তি পোহাচ্ছে। দ্রুত কাজ শেষ না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।

খুলনা সড়ক জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, বর্তমানে একটি সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। আগামী আগস্ট মাসেই সেটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্য সেতুটির কাজ শেষ করতে আরও প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন বলেন, সেতুর নকশা প্রস্তুত অনুমোদনে সময় লেগেছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে স্টিলের কাঠামো এনে কুমিল্লায় সংযোজনের কারণেও প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে।

গল্লামারীর জোড়া সেতু খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের ধীরগতির কারণে নগরবাসীর দুর্ভোগ যেন শেষ হচ্ছে না। এখন সবাই তাকিয়ে আছে আর কোনো মেয়াদ বৃদ্ধি নয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ হবে কি বহুল প্রতীক্ষিত এই জোড়া সেতুর নির্মাণকাজ?