বান্দরবান জেলা শহরের প্রবেশমুখের প্রধান সড়কেই চলছে বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট কাউন্টার ও বাস সার্ভিস কার্যক্রম। কাউন্টারের সামনে সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা এবং যত্রতত্র বাস-ট্রাক পার্কিংয়ের কারণে প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সাধারণ যাত্রী ও পর্যটকরা।
বান্দরবান-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী প্রায় ২০টি পরিবহনের টিকিট কাউন্টার রয়েছে শহরের প্রধান সড়ক ঘেঁষে। এসব কাউন্টারের সামনে সড়কেই বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা ও টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যান চলাচল এবং তৈরি হচ্ছে যানজট।
শহরের যানজট নিরসন ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। পরে তিন বছরের জন্য টার্মিনালটি বান্দরবান পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়। বাস ও ট্রাক রাখার জন্য নির্ধারণ করা হয় পার্কিং ফি।
তবে নির্ধারিত টার্মিনাল থাকার পরও প্রধান সড়কেই চলছে পরিবহনগুলোর কাউন্টার ও বাস সার্ভিস। ফলে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনালের কার্যকারিতা নিয়েই উঠেছে প্রশ্ন।
শুধু তাই নয়, টার্মিনালে যাতায়াত সহজ করতে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫০০ ফুট দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন টানেলটিও এখন অনেকটা গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গায় পরিণত হয়েছে। এতে টানেল দেখতে আসা পর্যটক ও শিক্ষার্থীদের চলাচলেও তৈরি হচ্ছে বিড়ম্বনা।
পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, বর্তমানে বান্দরবানে ব্যবসা-বাণিজ্য কম থাকায় অনেক গাড়ি খালি অবস্থায় থাকে। টার্মিনালে খালি গাড়ির জন্য ১০০ টাকা এবং পণ্যবোঝাই ট্রাকের জন্য ৩০০ টাকা পার্কিং ফি দিতে হয়। খালি গাড়ির ক্ষেত্রে এই খরচ অনেক সময় বহন করা সম্ভব হয় না। তাই বাধ্য হয়েই অনেকে সড়কের পাশে গাড়ি রাখছেন।
ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর উল্লাহ বলেন, প্রশাসন ও ইজারাদারদের সমন্বয়ে খালি গাড়ির জন্য নির্দিষ্ট ও সহজলভ্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হলে সড়কে যত্রতত্র গাড়ি রাখার প্রবণতা কমবে।
অন্যদিকে পরিবহন কাউন্টার ম্যানেজারদের দাবি, কাউন্টার সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। তাই আগের স্থান থেকেই টিকিট বিক্রি ও পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বান্দরবান পৌরসভা জানিয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড থেকে তিন বছরের জন্য কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবহন মালিক সমিতিকেও চিঠি দিয়ে নির্ধারিত টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য বলা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করে নির্ধারিত ফি দিয়ে টার্মিনাল ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে।
বান্দরবান পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী বিরল বড়ুয়া বলেন, টার্মিনাল ব্যবহারের বিষয়ে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। শহরের সড়কে অবৈধ পার্কিং বন্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাফিক আইন ভঙ্গ ও অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা ও জরিমানা করা হচ্ছে। যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সাথেও বৈঠক করা হয়েছে।
বান্দরবান পুলিশের সার্জেন্ট সুব্রত চক্রবর্তী বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নির্মাণের পরও যদি প্রধান সড়কেই পরিবহন কাউন্টার ও গাড়ির সার্ভিস কার্যক্রম চলে, তাহলে শহরের যানজটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে দ্রুত টার্মিনালটি পুরোপুরি কার্যকর করা হলে শহরের যানজট ও জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।


