পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে বড় ধরনের কূটনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছে তেহরান। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিচালনা পর্ষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে দীর্ঘ ২০ বছর পর ইরানের পারমাণবিক ‘অমান্যতা’র বিষয়টি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জোরালো পদক্ষেপে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আইএইএ’র প্রস্তাবটির পক্ষে ২৩টি ভোট পড়লেও বিপক্ষে পড়ে ৩টি ভোট এবং ৮টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে। এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া দেশগুলো হলো রাশিয়া, চীন ও নাইজার।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পারমাণবিক ইস্যুটি পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনের একটি সংঘাতের পর থেকেই আইএইএ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে পরিদর্শনের প্রবেশাধিকার হারাচ্ছে। সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতেও এসব স্থাপনায় হামলা চালানো হয়। আইএইএ বারবার পরিদর্শনের দাবি জানালেও তেহরান তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে আনা এই প্রস্তাবটিকে মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। কারণ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের মিত্র হিসেবে পরিচিত রাশিয়া ও চীনের স্থায়ী সদস্যপদ থাকায় তেহরানের বিরুদ্ধে যেকোনো কঠোর নিষেধাজ্ঞায় তারা ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে।
ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইরান। আইএইএতে নিযুক্ত ইরানের প্রতিনিধি রেজা নাজাফি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, ‘এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাজনৈতিক চাপের মুখে পাস হয়েছে এবং এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’ এটি তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কার্যকর ফলাফল বয়ে আনবে না বলেই মনে করছে ইরান।



