...|...|...

সারাদেশ

১০০ টাকা ঘুষ নিতে আপত্তি, আরও ১০০ না দিলে ফাইল ফেলে দেওয়ার হুমকি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:৩১
Shares
১০০ টাকা ঘুষ নিতে আপত্তি, আরও ১০০ না দিলে ফাইল ফেলে দেওয়ার হুমকি

অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে নোটিশ জারির কথা বলে টাকা নেওয়া এবং টাকা কম দেওয়ায় এক ভুক্তভোগীকে নোটিশ ‘ক্যানালে ফেলে দেওয়ার’ হুমকি দিতে শোনা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে রেজাউল ইসলামের হাতে ১০০ টাকার একটি নোট দেখা যায়। এ সময় নোটিশ জারির খরচের কথা উল্লেখ করে তিনি ওই ব্যক্তির সাথে কথা বলছিলেন। এসময় আরও ১০০ টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা না দিলে ফাইল খালে ফেলে দেয়ারও হুমকি দেন তিনি।

ভিডিওতে রেজাউলকে বলতে শোনা যায়, একটি নোটিশ জারি করতে ১৪০ টাকা খরচ হয়। এরপর তিনি বলেন, পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির নোটিশ এলে সেটি ‘ক্যানালে ফেলে দিয়ে আসবেন’ এবং তখন নোটিশ পাননি বলে এসিল্যান্ডের কাছে অভিযোগ করতে বলেন।
 
ভিডিওতে আরও শোনা যায়, নোটিশ জারি ও পরবর্তী কার্যক্রমে বিভিন্ন খরচ হয় দাবি করে তিনি ১০০ টাকা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী জানতে চান, এ টাকা দেওয়ার নিয়ম আছে কিনা। জবাবে রেজাউল তাকে এসিল্যান্ডের কাছে গিয়ে নোটিশ জারির জন্য গাড়িভাড়া চাওয়ার কথা বলতে বলেন।

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমির নামজারি, জমাভাগ, খাজনা পরিশোধ কিংবা নোটিশ জারিসহ বিভিন্ন সেবা নিতে ভূমি কার্যালয়ে গেলে রেজাউল ইসলাম নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক ভুক্তভোগী চাহিদামতো টাকা না দিয়ে ১০০ টাকা দেওয়ায় রেজাউলের সাথে তার কথা-কাটাকাটি হয়। ওই সময় ঘটনাটি মোবাইলফোনে ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

এদিকে সরকারি একটি দফতরের কর্মচারীর ঘুষ লেনদেন ও ভুক্তভোগীর সাথে এমন আচরণের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর কর্তৃপক্ষ রেজাউল ইসলামকে চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী রেজাউল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, আমার ভুল হয়েছে। শাস্তি হিসেবে স্যারেরা আমাকে বদলি করেছেন। আমি আর এমন করব না।

কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীকে বদলি করা হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সিনিয়র কর্মকর্তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।