...|...|...

লাইফস্টাইল

হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের চেয়ে বেশি উপকারী?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:০৬
Shares
হিমালয়ান পিংক সল্ট কি সাধারণ লবণের চেয়ে বেশি উপকারী?

ছবি: সংগৃহীত

গোলাপি রঙের কারণে হিমালয়ান পিংক সল্ট দেখতে আকর্ষণীয়। পাকিস্তানের খেওড়া লবণখনি থেকে সংগ্রহ করা এই লবণকে অনেকেই সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় বেশি স্বাস্থ্যকর মনে করেন। তবে এতে বিভিন্ন খনিজ উপাদান থাকলেও পিংক সল্টের বাড়তি স্বাস্থ্য উপকারিতার পক্ষে শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

লবণ মূলত সোডিয়াম ক্লোরাইড দিয়ে গঠিত। সাধারণ টেবিল লবণের প্রায় ৯৮ শতাংশই সোডিয়াম ক্লোরাইড। লবণখনি থেকে উত্তোলন কিংবা লবণাক্ত পানি বাষ্পীভূত করার মাধ্যমে এটি উৎপাদন করা হয়। বাজারজাত করার আগে সাধারণত লবণ পরিশোধন করা হয় এবং আর্দ্রতা রোধে অ্যান্টিকেকিং উপাদান যোগ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধে এতে আয়োডিনও মেশানো হয়।

অন্যদিকে, হিমালয়ান পিংক সল্ট তুলনামূলকভাবে কম প্রক্রিয়াজাত করা হয়। সোডিয়াম ক্লোরাইডের পাশাপাশি এতে বিভিন্ন খনিজ ও ট্রেস উপাদান থাকে। বিভিন্ন বিশ্লেষণে এতে প্রায় ৮৪ ধরনের খনিজ ও ট্রেস উপাদানের উপস্থিতির কথা বলা হয়। এর মধ্যে আয়রন লবণের গোলাপি রঙ তৈরিতে ভূমিকা রাখে।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি গ্রাম হিমালয়ান পিংক সল্টে ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও আয়রনের পরিমাণ সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় বেশি। তবে পার্থক্য থাকলেও এসব খনিজের পরিমাণ এতটাই কম যে শুধু পিংক সল্ট খেয়ে শরীরের দৈনিক খনিজের চাহিদা পূরণ করা বাস্তবসম্মত নয়।

উদাহরণ হিসেবে, শুধু পিংক সল্ট থেকে দৈনিক প্রয়োজনীয় পটাশিয়াম পেতে হলে প্রায় ১ দশমিক ৭ কেজি লবণ খেতে হবে। এত বিপুল পরিমাণ লবণ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। ফলে পিংক সল্টে থাকা অতিরিক্ত খনিজ থেকে উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত।

হিমালয়ান পিংক সল্ট নিয়ে নানা ধরনের স্বাস্থ্য দাবি প্রচলিত রয়েছে। শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমানো, শরীরের পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখা, ঘুমের মান উন্নত করা, রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, বার্ধক্যের প্রভাব কমানো এবং যৌন আকাঙ্ক্ষা বাড়ানোর মতো দাবিও করা হয়। কিন্তু এসব দাবির বেশির ভাগের পক্ষে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

লবণগুহায় সময় কাটানো বা ‘সল্ট থেরাপি’ নিয়ে ফুসফুসের কিছু রোগের ক্ষেত্রে গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় সম্ভাব্য উপকারের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে আরও শক্তিশালী গবেষণা প্রয়োজন। একইভাবে লবণ গ্রহণ ও ঘুমের সম্পর্ক নিয়ে কিছু গবেষণা থাকলেও সেগুলোতে বিশেষভাবে হিমালয়ান পিংক সল্ট পরীক্ষা করা হয়নি।

শরীরের পিএইচ ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণেও পিংক সল্টের বিশেষ কোনো ভূমিকা নেই। ফুসফুস ও কিডনি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় শরীরের অ্যাসিড-বেস ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করে। রক্তে শর্করা, বার্ধক্য বা যৌন আকাঙ্ক্ষার ওপরও পিংক সল্টের বিশেষ প্রভাবের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আয়োডিন। আয়োডিনযুক্ত টেবিল লবণ অনেক মানুষের খাদ্যে আয়োডিনের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কেউ যদি সেটির পরিবর্তে আয়োডিনবিহীন হিমালয়ান পিংক সল্ট ব্যবহার করেন, তাহলে মাছ, দুধজাত খাবার ও সামুদ্রিক শৈবালের মতো অন্যান্য খাদ্য থেকে পর্যাপ্ত আয়োডিন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ছাড়া সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় পিংক সল্টের দামও অনেক ক্ষেত্রে বেশি। তাই বাড়তি অর্থ খরচ করলেই বাড়তি স্বাস্থ্য উপকার পাওয়া যাবে-এমন নিশ্চয়তা নেই।

সব মিলিয়ে, হিমালয়ান পিংক সল্টে সাধারণ টেবিল লবণের তুলনায় কিছু অতিরিক্ত খনিজ থাকলেও সেগুলোর পরিমাণ খুবই কম। দুই ধরনের লবণের স্বাস্থ্যগত প্রভাব সরাসরি তুলনা করে পর্যাপ্ত গবেষণাও হয়নি। তাই পিংক সল্টকে সাধারণ লবণের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি স্বাস্থ্যকর বলে দাবি করার মতো শক্ত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বর্তমানে নেই।

সূত্র: হেলথলাইন