...|...|...

রাজনীতি

হঠাৎ জিন্নাহ কেন আলোচনায়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১:৩৪ | আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:১৪
Shares
হঠাৎ জিন্নাহ কেন আলোচনায়

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। ছবি: সংগৃহীত

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দল ও তরুণ অ্যাক্টিভিস্টদের একাংশের মধ্যে তাকে নতুন রূপে ও নতুন মূল্যায়নে উপস্থাপনের চেষ্টা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাকে কেউ কেউ ‘আধুনিক রাষ্ট্রের নির্মাতা’, ‘বিরল ব্যক্তিত্ব’ এবং এমনকি ‘জাতির প্রথম পিতা’ হিসেবেও অভিহিত করছেন।

২০২৪ সালের আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এই প্রবণতা শুরু হলেও জিন্নাহর সাম্প্রতিক প্রয়াণ দিবসকে কেন্দ্র করে তা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। এক্ষেত্রে ইনকিলাব মঞ্চ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ইসলামী ছাত্রশিবির প্যানেল থেকে নির্বাচিত সদস্যরা ছিলেন সবচেয়ে উৎসাহী সমর্থক। সম্প্রতি সংস্কারকৃত ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর তিনটি ছবি প্রদর্শিত হওয়ার পর এই বিতর্ক আরও গভীর হয়ে ওঠে। এই আলোচনার মূলে রয়েছে একটি বড় প্রশ্ন- জিন্নাহকে কি স্রেফ একজন ঐতিহাসিক চরিত্র হিসেবে নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, নাকি এই নতুন গুরুত্বের আড়ালে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে শেখ মুজিব ও মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে প্রতিষ্ঠিত প্রচলিত রাজনৈতিক বয়ানকে নতুন রূপ দেওয়ার এক বৃহত্তর প্রচেষ্টা কাজ করছে?

এরই মধ্যে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, যে জিন্নাহ বাংলা ভাষা কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন, তার ছবি এখানে রাখা হবে- এটা মেনে নেওয়া যায় না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি ‘রক্তের গৌরব’ বহনকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাই সংগ্রহশালায় ইতিহাস উপস্থাপনের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

এই ঘটনার পর জিন্নাহর ছবি সংগ্রহশালায় রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি বলেন, ছবি রাখার উদ্দেশ্য জিন্নাহকে গৌরবান্বিত করা নয়, বরং বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে তার অবস্থানকে ইতিহাসের অংশ হিসেবে তুলে ধরা। তার ভাষায়, ৫২-এর ভাষা আন্দোলন হঠাৎ করে ঘটেনি; এর আগে ধারাবাহিকভাবে একাধিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে অন্যতম হলো জিন্নাহর সরাসরি বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং এই অঞ্চলের রাষ্ট্রভাষা উর্দু হবে বলে তার প্রকাশ্য বক্তব্য। ডাকসুর দাবি অনুযায়ী, সেই বক্তব্যের ক্যাপশনসহই জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন করা হয়েছে।

এস এম ফরহাদ আরও বলেন, যদি সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি না দেওয়া হতো, তাহলে বলা হতো যে জিন্নাহ বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন, সেই সত্য লুকানো হয়েছে। আবার এখন ছবি ও ব্যাখ্যামূলক ক্যাপশন দেওয়ার পরও প্রশ্ন উঠছে কেন এই ছবি রাখা হলো।

তার দাবি অনুযায়ী, সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে কোনোভাবে দায়মুক্তি দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না, বরং তার বিতর্কিত ভূমিকাকেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে ছবির সঙ্গে ব্যাখ্যামূলক ক্যাপশন যুক্ত করা হয়েছে।