ভারতের জাতীয় ক্রিকেট দলের নতুন স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক স্পিনার সাইরাজ বাহুতুলে। এতদিন দলের বোলিং কোচ হিসেবে একাই দায়িত্ব পালন করছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মরনে মরকেল। এখন থেকে পেস বিভাগের পাশাপাশি স্পিন বিভাগ নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ করবেন বাহুতুলে। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) আনুষ্ঠানিকভাবে তার এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতীয় দলের পারফরম্যান্স স্বস্তিদায়ক হলেও, লাল বলের ক্রিকেটে তা বর্তমানে বেশ উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টেস্ট সিরিজ হারের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন ওঠে। স্পিনারদের বিপক্ষে ভারতীয় ব্যাটারদের বেহাল দশায় কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন কোচ গম্ভীর। টেস্ট দলের এমন করুণ অবস্থা গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে বিসিসিআই কর্তাদেরও। ধারণা করা হচ্ছে, স্পিন বোলিংয়ের এই দুর্বলতা কাটাতেই আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজের আগে তড়িঘড়ি করে স্পিন কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড।
ভারতীয় দলের স্পিন বিভাগে এখন পালাবদলের হাওয়া। কিংবদন্তি অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ইতোমধ্যে লাল বলের ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। অন্যদিকে, আসন্ন আফগানিস্তান টেস্টে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে দলের আরেক অভিজ্ঞ স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজাকে। ফলে বোলিং আক্রমণে অভিজ্ঞতার বড় ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকাতেও ভারতের বর্তমান অবস্থান খুব একটা সুবিধার নয়।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের স্পিন আক্রমণ সাজাতে ওয়াশিংটন সুন্দর, মানব সুতার ও হর্ষ দুবের মতো তরুণদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের কঠিন মঞ্চের জন্য এই তরুণ স্পিনারদের নিখুঁতভাবে প্রস্তুত করাই হবে সাইরাজ বাহুতুলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
জাতীয় দলের মতো বড় মঞ্চে দায়িত্ব পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত বাহুতুলে। এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘ভারতীয় দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব পাওয়া বিরাট সম্মানের ব্যাপার। খেলোয়াড় হিসেবে একসময় গর্বের সঙ্গে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছি। এবার কোচ হিসেবেও জাতীয় দলের জন্য অবদান রাখার সুযোগ পেলাম, যা আমার কাছে ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ।’
ভবিষ্যতের লক্ষ্য নিয়ে এই স্পিন কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমি তরুণ ও অভিজ্ঞ- সব ক্রিকেটারের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে আছি। সব সংস্করণের ক্রিকেটে দলের জন্য সাফল্য বয়ে আনাই আমার মূল লক্ষ্য।’



