...|...|...

অর্থনীতি

সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ ৭ জনের ১০ বছরের সাজা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৮:০২ | আপডেট: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:১৬
Shares
সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ ৭ জনের ১০ বছরের সাজা

খুলনায় অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সোনালী ব্যাংকের ছয় কর্মকর্তাসহ সাতজনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) খুলনার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মুহা. আদীব আলী এ রায় দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী মো. ইয়াসীন আলী। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামির মধ্যে পাঁচজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-দৌলতপুর সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার সাবেক গোডাউন কিপার মো. মতিয়ার রহমান, সহকারী জেনারেল ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলাম, সাবেক সহকারী মহাব্যবস্থাপক মানিক চন্দ্র মণ্ডল, সাবেক সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মো. রুহুল আমিন, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক অফিসার অজিত কুমার সরকার এবং দৌলতপুর থানার ডিসি রোডের মেসার্স ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস।

আদালত ও দুদক সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইস্টার্ন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সনজিৎ কুমার দাস পাট কেনার জন্য সোনালী ব্যাংক থেকে ৪৯ কোটি ৬২ লাখ ১৪ হাজার ২৩৭ টাকা ঋণ নেন।

পরে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে ঋণের অর্থ পাট কেনার কাজে ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়। সুদে-আসলে ওই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা।

এ ঘটনায় দুদকের সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর মামলা করেন। তদন্ত শেষে তিনি ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের এই রায় দেন। মামলার দুই আসামি সনজিৎ কুমার দাস ও মানিক চন্দ্র মণ্ডল পলাতক রয়েছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর আরজিনা সুলতানা সাথী বলেন, সোনালী ব্যাংকের দৌলতপুর করপোরেট শাখা থেকে ঋণ নিয়ে পাট না কিনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। মামলায় ৯২ কোটি ৬৩ লাখ ৩১ হাজার ৭৫২ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়।

তিনি বলেন, ব্যাংকের দৌলতপুর করপোরেট শাখায় দায়িত্ব পালনকালে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ওই অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করেছেন।