...|...|...

সারাদেশ

সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: অস্ত্রধারী দুই যুবক শনাক্ত

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১৬ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৩৫
Shares
সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষ: অস্ত্রধারী দুই যুবক শনাক্ত

অস্ত্রধারী দুই যুবক শনাক্ত। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে মহড়া দেওয়া দুই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অস্ত্রধারী দুই যুবকের নাম সাদেক ও সিরাজ। তারা দুজনই বিএনপির কর্মী বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে বিবদমান দুই পক্ষের কেউই অস্ত্রধারী দুজনকে নিজেদের কর্মী বলে স্বীকার করছে না।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহিনুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমরা দুই পক্ষের মাঝখানে ছিলাম। এজন্য অস্ত্রধারী কাউকে আমরা সেভাবে দেখতে পাইনি। পরবর্তীতে আমরা ছবি ও ভিডিও দেখে নিশ্চিত হয়েছি, দুই যুবকের হাতে দুটি অস্ত্র ছিল। তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযান চলছে। অবশ্যই গ্রেফতার হবে।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সীতাকুণ্ড পৌর সদরের হাসান গোমস্তা মসজিদ এলাকায় দলটির নেতাকর্মীদের দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আসলাম চৌধুরী এবং উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নীল পাঞ্জাবি ও জিনসের প্যান্ট পরা সিরাজকে অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখা যায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তার বাড়ি মীরসরাই উপজেলার হাইদকান্দি গ্রামে।

এ ছাড়া সংঘর্ষের মধ্যে লাল শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা আরেক যুবককে অস্ত্র হাতে প্রতিপক্ষের দিকে তেড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তার নাম সাদেক। তার বাড়ি সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের বগাচতর গ্রামে।

দুই অস্ত্রধারীকে নিয়ে আসলাম চৌধুরী ও কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসলাম চৌধুরীর সাথে সাদেক ও সিরাজের একাধিক ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আসলাম সমর্থকদের দাবি, এসব ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা। অস্ত্রধারী দুজন ‘সালাহউদ্দিনের লোক’ বলেও দাবি করছেন তারা।

কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, অস্ত্র, ক্যাডার, সন্ত্রাসের রাজনীতি আমি করি না। যাদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছে তারা কার সাথে ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছে সেটা আপনারা যাচাইবাছাই করে দেখুন। আমার সাথে যদি সন্ত্রাসী থাকত, তাহলে আমাদের ওপর হামলা হত না।

আসলাম চৌধুরী মোবাইল ফোনে কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

তবে তার অনুসারী সীতাকুণ্ড উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব কাজী মহিউদ্দিন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি পালন করছিলাম। তারা সরাসরি অস্ত্রধারীদের নিয়ে এসে আমাদের ওপর হামলা করেছে। এরা বিএনপির কর্মী নয়। এরা সন্ত্রাসী।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রাসেল জানান, অস্ত্রধারী একজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। আপাতত নাম-পরিচয় প্রকাশ করছি না। অস্ত্রধারী কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।