মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় সাংবাদিক পরিচয়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে উজ্জ্বল মণ্ডল নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন স্থানীয়রা। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও স্থানীয়দের কাছে লিখিত মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে। উজ্জ্বল মণ্ডল কালকিনি পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াকান্দি গ্রামের ঝন্টু মণ্ডলের ছেলে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, তিনি নিজেকে ‘সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা’র সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, বালিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান অসুস্থতাজনিত কারণে ছুটিতে রয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতি নিয়ে তার স্থলে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন কম্পিউটার অপারেটর আব্দুস সালাম। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি উজ্জ্বল মণ্ডল ভূমি অফিসে গিয়ে সালামকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাকে সেখানে কাজ করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়।
আব্দুস সালামের দাবি, ভয়ে তিনি প্রথম দফায় উজ্জ্বল মণ্ডলকে ১০ হাজার টাকা দেন। পরে বৃহস্পতিবার দাবিকৃত আরও ২০ হাজার টাকা নিতে ভূমি অফিসে গেলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন।
আব্দুস সালাম বলেন, “ভূমি কর্মকর্তা অসুস্থ থাকায় আমাকে অফিসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে উজ্জ্বল মণ্ডল আমার কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আমাকে কাজ করতে দেবেন না বলে ভয়ভীতি দেখান। প্রথমে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার বাকি ২০ হাজার টাকা নিতে এলে স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। পরে তিনি মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পান।”
অভিযোগ রয়েছে, একই ভূমি অফিসের পিয়ন দেলোয়ারের কাছেও তিন মাসের বেতনের টাকা দাবি করেছিলেন উজ্জ্বল মণ্ডল। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, সাংবাদিকতার পরিচয় ও পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তিনি কালকিনি ও ডাসারের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেন।
স্থানীয়দের দাবি, উজ্জ্বল মণ্ডল ‘সাপ্তাহিক এশিয়া বার্তা’র পাশাপাশি কোথাও কোথাও ‘দৈনিক প্রতিচ্ছবি’ ও ‘প্রভাতী বাংলাদেশ’-এর পরিচয়ও ব্যবহার করেছেন। তবে এসব গণমাধ্যমের সাথে তার বর্তমান সম্পর্ক, পরিচয়পত্রের বৈধতা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, উজ্জ্বল মণ্ডল এর আগে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি করলেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে চাকরি থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে এলাকায় ফিরে মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডেও জড়িত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কয়েকজন বাসিন্দা। তবে এসব অভিযোগেরও স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে উজ্জ্বল মণ্ডলের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমার নতুন কার্ড ইস্যু করার জন্য দেওয়া হয়েছে।”
ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান মাহমুদ বলেন, এ ঘটনায় আমাদের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিল পারভেজ বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত আছি। স্থানীয়দের কাছে মুচলেকা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অপসাংবাদিকতার বিষয়ে প্রশাসন সবসময় নজর রাখছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে এর দায় প্রকৃত সাংবাদিকদের ওপরও পড়ে এবং পেশাটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


