...|...|...

রাজনীতি

সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব: বিএনপি এমপি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:০১ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:০৩
Shares
সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব: বিএনপি এমপি

ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন বলেছেন, ‘এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে, বিএনপির বিপক্ষে একটি উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিব, একদম সোজা কথা।’

রবিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ধামরাই পৌর শহরের আইঙ্গন এলাকায় সংসদ সদস্যের মালিকানাধীন চাল কল মিল কিষান কোল্ড স্টোরেজে সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে ডেকে এসব কথা বলেন তিনি। তার পাশে ধামরাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, সহ-সভাপতি রাকিবুর রহমান খান ফরহাদ, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আতিকুজ্জামান স্বপনসহ আরও কয়েকজন নেতা ও কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলার বালিথা এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হন। এরমধ্যে একটি পক্ষের ব্যক্তিরা এমপি তমিজ উদ্দিনের অনুসারী। অপর পক্ষের ব্যক্তিরা ধামরাইয়ের সুতিপাড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও ধামরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রমিজুর রহমান রোমার অনুসারী। এ হামলার ঘটনায়, রোমা এমপিকে সরাসরি তার সাথে বিবাদের আহ্বান জানান। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন রবিবার নিজের চালকল কারখানায় সাংবাদিকদের সংবাদ সম্মেলনের কথা বলে ডেকে নেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যকালে তিনি রমিজুর রহমান রোমাকে আওয়ামী লীগ বলে অভিহিত করেন। এছাড়া একপর্যায়ে সাংবাদিকদের নিয়েও বিভিন্ন মন্তব্য করেন।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা, আপনারা এই গরমের মধ্যে এসেছেন, আপনাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। শুধু একটা কথা বলতে চাই আপনাদের ব্যাপারে। আমি কারও শত্রু না। আমি কারও কী বলেন, রাগের বিভাজন হই, এমন কোনো কাজ আমি করি না। আপনারা জানেন।
এ সময় তার সাথে নেতাকর্মীরা এক যোগে, ’ঠিক‘ বলে ওঠেন।

একপর্যায়ে রমিজুর রহমান রোমার নাম উল্লেখ না করেই ইঙ্গিত করে তমিজ উদ্দিন বলেন, ৪ তারিখেও যে মানুষটাকে নিয়ে আমি কথা বলতে চাই না, উচ্চারণও করতে চাই না।আপনারা বুকে হাত দিয়ে বলেন তো, ৪ তারিখে আওয়ামী লীগের পক্ষে এই ধামরাই সদরে মিছিল করে নাই? বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে আন্দোলন করে নাই? সেই মানুষটা, যে মানুষটি, আপনারা কী করে বলেন যে সেই মানুষটি বিএনপির একজন মানুষ? এবং এমপির সাথে তাকে তুলনা করতেছেন আপনারা।

এ সময় সংসদ সদস্যের সাথে থাকা নেতাকর্মীরা, ‘দালাল’, ‘দালাল’ বলে চিৎকার করতে থাকেন।

তমিজ উদ্দিন আরও বলেন, যেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা কালকে এই নিউজটা করেছেন, নিশ্চয়ই চিনেন। আমি তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আজকে আমার সাথে দয়া করে বসবেন। যারা আছেন, তারা বসবেন এখনই। যারা নাই, তাদের সাথে ঘরোয়াভাবে কথা বলবো। আপনাদের সম্মান রক্ষা করার জন্য।

এ সময় তিনি আরও বলেন, এরপর যদি ধামরাইয়ের ব্যাপারে, রাজনৈতিক ব্যাপারে বিএনপির বিপক্ষে একটি উচ্চারণ করেন অন্যায়ভাবে, সাংবাদিকতা শিখিয়ে দিবে। একদম সোজা কথা।

‘স্বৈরাচারের দোসর হইয়া, কে কারে শেল্টার দিল আর ২ হাজার টাকা, ৫ হাজার টাকা খাইয়া যা খুশি তাই করবেন, এটা ভুলে যেতে হবে,’ এমন আরও মন্তব্য করেন তিনি।

তমিজ উদ্দিন বলেন, আপনারা নিজেরা কি জানেন না, বিগত দিনগুলাতে আজকে যে চ্যালেঞ্জ দিল, সে কিন্তু ভোটের চ্যালেঞ্জ দেয় নাই। সে কিন্তু জনগণের কথা বলে নাই। ‘তারেক সাহেবের ক্ষমতা থাকলে সুতিপাড়া আইসা আমার লগে মারামারি করো’, তাই তো? এবং এই ‘মারামারি করুক’, এই শব্দটা কিন্তু আপনারাই বের করে নিয়ে আসছেন তার বক্তব্য থেকে। আপনারা একবারের জন্য কিন্তু প্রশ্ন করেন নাই যে, ‘আপনি কী বলতেছেন? এমপি আপনার সাথে মারামারি করতে আসবে কেন? আপনি কে?’ আপনারা এ কথা কেন বললেন না যে, ‘আমি তমিজ সাহেবের দল করি না, আমি তারেক রহমানের দল করি।’ কেন আপনারা বললেন না, তাহলে নিশ্চয়ই আপনি সাহেবকে ভোটটা দেন নাই, তার বিরোধিতা করেছে। আপনারা এ কথা কেন বলেন নাই যে, আপনি সন্ত্রাসী করেন আজকে নয়, আওয়ামী লীগ যেদিন ক্ষমতায় গেছে সেদিন থেকেই?

তিনি রমিজুর রহমান রোমার নাম উল্লেখ না করেই ইঙ্গিত করে আরও বলেন, আপনার ভাগ্য উন্নয়ন হয়েছে। আপনি কি একটা ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারবেন? যে কোনো ব্যবসা করতে গেলে, পানির দোকানদারি করতে গেলেও তো ট্রেড লাইসেন্স লাগে। দয়া করে কেন আপনারা এই প্রশ্নটি তুলেন নাই যে, আপনার একটা ট্রেড লাইসেন্স নাই, অথচ আপনি ঢাকায় বাড়ি, ধামরাইয়ে কয়েকটা বাড়ি, বিশাল বিশাল অট্টালিকা। আপনি চ্যালেঞ্জ করেন যে, তারেক রহমান যে গাড়ি চালায়, আমি সেই গাড়ি কিনেছি। আপনারা শুনেন না এটা? আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রশ্ন করতেছি। এই কথা আপনারা শোনেন না মানুষের কাছে? এই যে অগণিত টাকা-পয়সা, আপনারা একবারও কোনো প্রশ্ন করেন, এর উৎস কী?

তিনি আরও বলেন, আপনারা জানতেন, বেনজির সাহেব আওয়ামী লীগের এমপি। তার সবচাইতে প্রিয় ব্যক্তি কে ছিল? আপনারা বলেন। আপনারা দয়া করে উত্তর দিবেন, আমি ভুল বললে। ছিল না? শেষদিন উপজেলা নির্বাচন যখন হয়, আমার প্রিয় নেতা, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, উনি আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। দুপুরের বিকাল বলেছিলেন যে, ‘সাহেব, বিএনপি অনেক জায়গাতে হচ্ছে। আমরা তো উপজেলা নির্বাচনে যাই নাই, আমাদের কোনো প্রার্থী নাই। তো আমার কাছে রিপোর্ট আসতেছে, বিভিন্ন জায়গার আমাদের বেশ কিছু নেতা বিভিন্ন জনের সাথে মিলে নৌকা ঠেকাও বলতেছে।’ তো বলেন তো, ওরা কি নৌকার বাইরের লোক? আওয়ামী লীগের বাইরের লোক, যারা ইলেকশন করতেছে? আমরা তো ইলেকশন করি না। আপনি যারা আছে আপনার এলাকায়, আমিও স্বীকার করেছি, আমিও শুনতেছি। আপনি আমার এই ল্যাঙ্গুয়েজটা বলবেন।

একই সাথে তিনি বলেন, আমি প্রকাশ্যে বলছি সব সাংবাদিকদের সাথে যে, ‘আমার সালাম পৌঁছাবেন যে, তারেক রহমান আপনাকে সালাম দিয়েছে এবং আপনাকে অনুরোধ করেছে যে, দয়া করে এই নির্বাচনে এই প্রার্থীর পক্ষে যাবেন না। আপনি চেষ্টা করুন আমাদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য বিশ্বের কাছে, যাতে এই নির্বাচনে ভোটার খুব কম উপস্থিত হয়।’ আপনারা দেখেছেন, সেই নির্বাচনে সে কার পক্ষে বক্তৃতা দিয়েছে। চায় নাই ভোট নৌকার পক্ষে? চায় নাই সে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে?চ্যালেঞ্জ করে নাই সে। শুধু সুতিপাড়া না, সে সুতিপাড়ার বাইরেও তো সব ভোট দিবে চ্যালেঞ্জ করছে। তো আপনার এই প্রশ্নগুলো কেন কালকে করলেন, আমি বুঝি না।

এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে তমিজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘দয়া করে আপনারা সম্মানের জায়গায় থাকেন। আপনারা আমাকে ভালো করে চিনেন। অনেকেই বলেন যে, ‘তারেক সাহেব আগের সেই তারেক সাহেব নাই।’ আমরা ছেড়ে দিয়েছিলাম এই কারণে। ৫ তারিখের পরে আপনারা কেউ বলেন নাই, যখন জামায়াত, এনসিপিসহ আওয়ামী লীগের দোষকরা বদনাম তুলে বাংলাদেশে যে বিএনপির লোকরা চাঁদাবাজি করে খাচ্ছে। কিন্তু আপনারা অনেকেই, আমি সবাইকে বলব না, অনেকেই ওই দুই-চার-পাঁচ হাজার টাকার লোভে গিয়ে আপনারা প্রশংসা করেছেন চাঁদাবাজদের।

তাদের মতো নেতা হয় না, তাদের মতো লোক হয় না, তারা এত জনপ্রিয়! এখন আমি ফেসবুকে কোনো সাংবাদিকের একটা পোস্ট দেখতেছিলাম, ‘এত বড় নেতা, সে এত স্বচ্ছ মানুষ, সে সুতিপাড়ার চেহারা বদলায় ফেলছে।’
তিনি আরও বলেন, এই যে ব্যাপারগুলা, এই ব্যাপারগুলা আমার বলার কথা ছিল না। তাকে আমার কথা একেবারেই বলা চলে না। তবুও আমি সাংবাদিক ভাইদের বলছি, আমাদের নেতারা তো সব জানেই।’

আপনারা কেন প্রশ্ন করলেন না?বিগত ১৬ বছর, কয়েকদিন তো ছিলেন এই তমিজ সাহেবের সাথে, নেতাও সেই বানাইছিল একসময়। তো হারিয়ে গেছেন, গেছেন গা। কিন্তু এই ১৬ বছর বা শেষের ১০টা বছর, আপনি ধামরাইয়ের মাঠে কেউ দেখছেন আমাদের সাথে? দেখছেন? তাহলে কোনোদিন একটা ছবি দেখাইতে পারবেন, সাংবাদিকেরা? সেই লোকটা আপনারা বিএনপি বানালেন। আমার প্রতিপক্ষ বানাইলেন, আমার কিছু বুঝি না। ওটা আমার মাথায় ঢোকে না। আপনারা কি চান যে, বিএনপিকে আপনারা পরিকল্পনাভাবে করে, ওই যে অন্ধকারে যারা আছে, আমাদেরকে বেকায়দায় ফেলার জন্য তাদের সাথে হাত মিলাতে চান? মিলালে আমরা রাজনীতি আপনাদের সাথে করব? অন্য কেউ করুক আর না করুক, আমি করব না। আমরা এটা জানি।

তিনি আরও বলেন, পরিষ্কার কথা, স্বচ্ছ সুন্দর সংবাদ আপনারা পরিবেশন করেন। আমরা আপনাদের স্যালুট দিব। সমস্যা থাকলে বলবেন। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব আমরা করবো। কারণ আপনাদের ক্ষমতা আমার চেয়ে অনেক বেশি। আমরা সকলেই আপনাদেরকে সম্মান করি। সেই কারণে একটা খবর প্রচার করার আগে ভালো করে দেখে, বুঝে, দয়া করে করবেন। তাহলে আমরা আমার সরকারের যে পরিকল্পনা, আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে দিব, আমরা একটা সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলব। এবং সেই সাথে আমরা চাই আপনাদের সবার সহযোগিতা নিয়ে এই ধামরাইটাকে আমরা একটা মডেল ধামরাই করতে চাই। যেখানে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ থাকবে না, কিছুই থাকবে না।

তমিজ উদ্দিন বলেন, আমি ভয় পাই না ফেসবুক নিউজ, নিউজ বুঝেও না—এগুলা আমি ভয় পাই না। আমি ভয় পাই আমার জনগণকে, আমার নেতাকেই। আমি আমার সাথে কথা বলে ফেলি। কারণ অভিভাবক হিসেবে আমি মনে করি যে, যারা আমার সাথে ছিল, আমাদের সাথে ছিল, তাদের আমি রাগারাগি করা মানে তাদের ভালোর জন্যই করা।

একই সাথে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা নেতাকর্মীকে আমি আদর করি। ভুল দেখলে যখন রাগারাগি করি, তাকে ধরে নিবেন যে আপনার মঙ্গলের জন্য আমি করছি। এই কারণে দুর্দিন আপনারা অনেক কষ্ট করেছেন। সুদিন যেন আপনারা এর অন্তত একটু উপভোগ করতে পারেন। সেই সুদিনের জন্যই জঞ্জাল কাটা।