রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার উদ্বেগ ও মানসিক দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
অন্যদিকে, ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন ‘এ ধরনের ভুল স্বাভাবিক’ বলে মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তার এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে রক্ত পরীক্ষা করান অন্তঃসত্ত্বা নারী সাফিয়া খাতুন। ওই পরীক্ষার রিপোর্টে তার রক্তের গ্রুপ ‘এ পজিটিভ’ (A+) উল্লেখ করা হয়। তবে রিপোর্টটি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পরবর্তীতে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার দুটি পৃথক বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পুনরায় রক্ত পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, উভয় প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টেই তার রক্তের গ্রুপ ‘ও পজিটিভ’ (O+) উল্লেখ করা হয়েছে।
একই ব্যক্তির রক্তের গ্রুপ নিয়ে সরকারি হাসপাতাল ও দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে ভিন্ন তথ্য পাওয়ায় বিভ্রান্তিতে পড়ে পরিবারটি। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীর ক্ষেত্রে রক্তের গ্রুপসংক্রান্ত ভুল তথ্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তাদের আশঙ্কা, ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে চিকিৎসা বা রক্ত সঞ্চালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারত।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সরকারি হাসপাতালে নির্ভরযোগ্য সেবা পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তারা পরীক্ষা করিয়েছিলেন। কিন্তু রিপোর্টে এমন অসঙ্গতি দেখা দেওয়ায় তাদের চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়তে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে, কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবের কর্মীদের দাবি, অতিরিক্ত রোগীর চাপ ও জনবলসংকটের কারণে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত অসঙ্গতি ঘটতে পারে। অভিযুক্ত ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সঠিক কাজ করার চেষ্টা করি। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকলে কাজের কিছুটা ব্যত্যয় ঘটতে পারে।’
ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে চাইলে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইসরাত জাহান উম্মন বলেন, ‘এ ধরনের ভুল হওয়াটা স্বাভাবিক, মানুষের তো ভুল হতেই পারে।’ এমন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সাথে তিনি ল্যাবে জনবলসংকটের বিষয়টি তুলে ধরে জানান, বিপুলসংখ্যক রোগীর বিপরীতে হাসপাতালে মাত্র একজন ল্যাবকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন।
তবে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় ভুলের অভিযোগ এবং এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মন্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে ভুলের কারণ শনাক্ত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সাথে পরীক্ষার রিপোর্টে অসঙ্গতির জন্য কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্যের বিষয়টিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরীক্ষাগারে পর্যাপ্ত জনবল, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও মানসম্মত পরীক্ষাপদ্ধতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, রাজবাড়ীতে এর আগে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে তিন নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে নতুন করে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে ভুল রিপোর্টের অভিযোগ জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে বর্তমান অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে।


