রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অবরোধকারীদের সাথে সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর ৯ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ছয়জন ও পুলিশের দুজন সদস্য রয়েছেন। বাকি একজন কোন বাহিনীর সদস্য, তা স্পষ্ট করেননি পুলিশ সুপার। এ ঘটনায় এলাকায় অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে রাঙামাটি পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।
পুলিশ সুপার বলেন, অবরোধকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলের আঘাতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, অবরোধের মধ্যে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি চালায়। তবে এতে কোনো পর্যটক আহত হননি। সেনাবাহিনী ও পুলিশ যৌথভাবে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি শিথিল রাখা হয়। পরে ২১ অক্টোবর আবারও অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হলে সাজেকে প্রায় তিন হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।
আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দিতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় তাদের সাজেক থেকে নিয়ে আসা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়িবহর উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীদের সাথে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কথা হয়। এ সময় অবরোধকারীরা চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে কয়েকজন সদস্য আহত হন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, পর্যটকবাহী গাড়িবহর সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইউপিডিএফের সশস্ত্র একটি গ্রুপের গুলিবর্ষণের খবর পাওয়া যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও পাল্টা গুলি চালায়। পরে নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি হয়, যা দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। এরপর পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোছাইন, মো. জসীম উদ্দীনসহ পুলিশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অবরোধের পটভূমি
সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু লারমা-সমর্থিত সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া, এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি-ভীতি প্রদর্শনের প্রতিবাদ এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারসহ স্থানীয়দের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
স্থানীয়দের দাবি, সংগঠন দুটি ইউপিডিএফ-সমর্থিত।


