...|...|...

বিশ্ব

সম্পর্ক ঠিক করতে ভারত-বাংলাদেশের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক কাল

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:২৮
Shares
সম্পর্ক ঠিক করতে ভারত-বাংলাদেশের ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক কাল

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাণিজ্য ও কনস্যুলার বিষয়ের মতো প্রাতিষ্ঠানিক পর্ষদগুলোর বৈঠক আয়োজনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ভারত ও বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা এখনও রয়ে গেছে। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানা গেছে।

হিন্দুস্তান টাইমসের বরাতে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রগুলো জানিয়েছে, বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে যোগ দিতে একটি বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল বুধবার নতুন দিল্লি সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ৮-৯ অক্টোবর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া দুই দেশ কনস্যুলার সংক্রান্ত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের তারিখ চূড়ান্ত করার কাজও করছে, যা এবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে একধরনের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছে, যদিও উভয় দেশই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যান্য জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এবং মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছিল।

এদিকে, গত ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর সম্পর্ক মেরামতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ভারত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের পাশাপাশি বিমসটেক গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে গত মাসে বাংলাদেশ সরকার ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতেও উভয় পক্ষকে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ দলের মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর-৮ অক্টোবর নির্ধারিত বৈঠকের জন্য) যাওয়ার কথা থাকলেও লজিস্টিক বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কারণে তারা সেদিন রওনা হতে পারেননি। ফলে বৈঠকটি পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

সূত্র জানায়, ঢাকার পক্ষ থেকে চাচ্ছিল বাণিজ্য বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকের পরপরই দুই দেশের বাণিজ্য সচিবদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হোক। তবে ভারতীয় পক্ষ ঢাকাকে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে, ট্রানজিট ও সীমান্ত বাণিজ্যের মতো বিষয়গুলো দেখভাল করে—এমন অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক মেকানিজমগুলোর বৈঠক সম্পন্ন হওয়ার পরই কেবল সচিব পর্যায়ের বৈঠক হতে পারে।

অন্যদিকে, ভিসা সংক্রান্ত বেশ কিছু জটিলতা নিরসনে কাজ করায় কনস্যুলার বিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকটি বর্তমানে বেশ গুরুত্ব লাভ করেছে।

সূত্র বলছে, তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের তারিখ নির্ধারণের ক্ষেত্রে ভারতীয় পক্ষের ব্যস্ত কূটনৈতিক সূচি একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। চলতি অক্টোবর মাসে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট গাই পারমেলিন এবং পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্কের ভারত সফর রয়েছে। এছাড়া ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আগামী ১৬-১৮ নভেম্বর আসিয়ান সম্মেলনে যোগ দিতে ফিলিপাইন সফরে যাবেন।

ডিসেম্বর মাসেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বেলজিয়াম সফরের কথা থাকায় প্রধানমন্ত্রী মোদির সূচি বেশ ব্যস্ত থাকবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলতি অক্টোবর মাসে জাপান এবং নভেম্বর মাসে তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।