...|...|...

চট্টগ্রাম

সব হারানো জহুরার ঘর এখন জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১১:০৪ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৯:৫৬
Shares
সব হারানো জহুরার ঘর এখন জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি

৭৫ বছর বয়সী জহুরা বেগম। ছবি: টাইমস টুডে

একসময় ছিল সংসার, ছিল স্বামী-সন্তান। এখন কিছুই নেই। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ৭৫ বছর বয়সী জহুরা বেগমের ঠিকানা হয়েছে একটি জরাজীর্ণ যাত্রীছাউনি। মাথার ওপর নিরাপদ ছাদ নেই, নিয়মিত খাবারের নিশ্চয়তা নেই, নেই দেখভালের মতো আপনজনও। অসুস্থ শরীর নিয়ে রোদ-বৃষ্টি মাথায় করেই সেখানে দিন-রাত কাটছে তার।

হৃদয়বিদারক এ ঘটনা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেতছড়ি এলাকার।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ৩০ বছর আগে স্বামীকে হারান জহুরা বেগম। এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিল তার। দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভুগে প্রায় ১৫ বছর আগে তারাও মারা যান। এরপর থেকেই নিঃসঙ্গ জীবন শুরু হয় জহুরার। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে নানা অসুস্থতাও। জীবনের শেষ সময়ে এসে আপন বলতে আর কেউ নেই তার।

সম্পর্কের জেঠি হওয়ায় প্রায় দুই বছর আগে বেতছড়ি এলাকার আলম মিয়ার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন জহুরা। কিন্তু আলম মিয়া বর্তমানে এলাকায় নেই। আরেক স্বজন এলাকায় থাকলেও তিনিও অসুস্থ। ফলে জহুরার দেখভালের মতো কার্যত কেউ নেই।

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে সম্প্রতি খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চিকিৎসা শেষে ফিরে বেতছড়ি এলাকার এক ব্যক্তির বাড়িতে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় দুই মাস থাকার পর সেই আশ্রয়ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ঠাঁই হয় এলাকার একটি পুরোনো যাত্রীছাউনিতে। এখন সেই জরাজীর্ণ ছাউনিই জহুরার ঘর, ঠিকানা ও আশ্রয়স্থল। ছাউনিটির অবস্থা এতটাই নাজুক যে সামান্য বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি পড়ে। নিরাপদে থাকার মতো কোনো ব্যবস্থাই নেই। অসুস্থ শরীর নিয়ে বৃষ্টি ও দুর্যোগের মধ্যেই সেখানে পড়ে থাকতে হচ্ছে তাকে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও অন্যের ভিটায় একটি জরাজীর্ণ ঘরে থাকতেন জহুরা। নিজের কোনো জায়গা-জমি নেই। বয়স ও অসুস্থতার কারণে সেই আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন তিনি। এখন একটি যাত্রীছাউনিতে পড়ে থাকাই তার নিয়তি।

ছাউনির পাশে পড়ে রয়েছে একটি অটোরিকশা। অথচ সেখানে থাকা জহুরা বেগমের নিজের জন্য নেই একটি নিরাপদ ঘর। নেই নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা। কখনো কেউ খাবার দিলে খান, না হলে অনাহারেই কাটে দিন—জানান স্থানীয়রা।

জহুরার করুণ অবস্থার কথা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রশ্ন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে একজন অসুস্থ বৃদ্ধার ঠিকানা কি একটি ভাঙাচোরা যাত্রীছাউনি হতে পারে?

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, জহুরা বেগমের জন্য দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। একইসাথে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

তাদের প্রত্যাশা, প্রশাসনের উদ্যোগে জহুরাকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া হবে। জীবনের শেষ দিনগুলো অন্তত যেন রোদ-বৃষ্টির নিচে নয়, একটু নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে কাটাতে পারেন—এটাই এখন অসহায় এই বৃদ্ধার সবচেয়ে বড় চাওয়া।